ঝিনাইদহে খেজুরের রস সংগ্রহে গাছিদের কর্মব্যাস্ততা শুরু

খুলনা সারাদেশ

জাহিদুর রহমান তারিক,ঝিনাইদহঃ
প্রকৃতিতে শীতের আমেজ এসে গেছে। সকাল-সন্ধ্যা নিয়ম করেই ‘প্রকৃতির ঘোমটা’ কুয়াশার চাঁদরে ঢাকা পড়ে মেঠোপথ। আর এর মধ্যেই শীতের উপাদেয় খাবার খেজুরের রস সংগ্রহে ব্যস্ত হয়ে গেছেন গাছিরা। যশোরের যশ, খেজুরের রস এই খ্যাতি দীর্ঘ দিনের। তাই কার্তিক মাস শুরুর সঙ্গে সঙ্গে গাছিরা খেজুর গাছ ছেঁটে রস সংগ্রহ ও গুড় তৈরির প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন এ এলাকার কৃষকরা। যশোরের পার্শ্ববতী জেলা ঝিনাইদহের বিভিন্ন গ্রামের গাছিরা এখন খেজুর গাছ কাটতে শুরু করেছেন। ঝিনাইদহের আসাননগর, বোড়াই ও রাঙ্গিয়ারপোতা, কালীগঞ্জের মহেশ্বরচান্দা, কেয়াবাগান, কোলা, নিয়ামতপুরসহ বিভিন্ন গ্রাম ঘুরলে এখন খেজুর গাছ ছাঁটার দৃশ্য চোখে পড়ে। আগাম গুড় ও পাটালি উঠলে লাভও বেশ ভালোই হয়। সেই আশাতেই চলতি বছরও গুড় তৈরির দিকে ঝুঁকছে গাছিরা। সদর উপজেলার সাধুহাটি ইউনিয়নের আশাননগন গ্রামের কৃষক সামছুল হক জানান, তিনি অনেক বছর থেকেই খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহ করছেন। এ রস থেকে তিনি গুড় ও পাটালি তৈরি করে কালীগঞ্জ ও ঢাকায় নিয়ে বিক্রি করে থাকেন। আগাম গুড় ও পাটালির দাম ভাল পাওয়া যায়। গত বছর তিনি ১০ কেজি ওজনের এক ঠিলা গুড় ৭০০ থেকে এক হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন। একই গ্রামের খেজুর গাছি সামেদ জানান, চলতি বছর তিনি ৫০টি খেজুর গাছ কেটেছেন। আশা করছেন আগামী এক সপ্তাহ পর থেকেই প্রতিটি গাছ থেকে রস পাওয়া যাবে। গত বছর তিনি খেজুরের গুড় ও পাটালি বিক্রি করে প্রায় ৫৫ হাজার টাকা লাভ করেন। চলতি বছর আরও বেশি দামে গুড় বিক্রির আশা করছেন। ঝিনাইদহে আনুমানিক তিন লাখ খেজুর গাছ রয়েছে। এর মধ্যে সদরের ১৭টি ইউনিয়নেই রয়েছে ৫০ হাজারের বেশি।

সদর ইউনিয়নের কৃষকরা শীত মৌসুমে এসব গাছ থেকে প্রায় পাঁচ লাখ কেজি গুড় উৎপাদন করে থাকেন। একই এলাকার খেজুর গাছি আঃ রহিম জানান, গত বছর ১০ কেজি ওজনের এক কলস গুড় উৎপাদন করতে খরচ হয়েছিল ৪০০ টাকা। আর বিক্রি করেছেন ৭০০ টাকায়। তবে জ্বালানির দামসহ আনুসাঙ্গিক ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় চলতি বছর খরচ আরও কিছু বেশি হতে পারে। এরই মধ্যে অনেক কৃষক গুড় তৈরির সরঞ্জাম এমনকি জ্বালানিও সংগ্রহ করে ফেলেছেন। আব্দুল মিয়া জানান, খেজুর রস থেকে গুড় তৈরির কাজ শুরু করতে প্রাথমিক সরঞ্জাম কলস ও জ্বালানি সংগ্রহ হয়ে গেছে। সরজমিনে গিয়ে সদর উপজেলার সাধুহাটি ইউনিয়নের আসাননগর, বোড়াই ও রাঙ্গিয়ারপোতা, গ্রাম ও তার আশপাশের কয়েকটি গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, সকাল থেকেই ব্যস্ত গাছিরা দা, ঠুঙি, দড়ি ও মাটির কলস (ভাড়) নিয়ে ছুটে চলেছেন নির্দিষ্ট গন্তব্যে। গাছিদের প্রক্রিয়াজাত করা খেজুরের গুড়, পাটালি বা রস দিয়েই কয়েকদিন পরেই মুখরোচক পিঠা, পুলি, পায়েস তৈরির ধুম পড়বে গ্রামের গৃহস্থ বাড়িতে। শুধু কি তাই? খেজুরের গুড় বা রস দিয়ে তৈরি মুড়ি, চিড়ার মোয়া লেপমুড়ি দেওয়া শীতের সকালে খাওয়ার মজা তো উপভোগ করেন আবাল বৃদ্ধ বনিতা সবাই। ঝিনাইদহের বন কর্মকর্তা জানান, বৃহত্তর যশোর জীব বৈচিত্র সংরক্ষণ প্রকল্পের আওতায় ১১ বছর আগে ঝিনাইদহে প্রায় লক্ষাধিক সৌদি খেজুর গাছের চারা রোপন করা হয়। এখন সেসব গাছ থেকেও রস উৎপাদন করছেন খেজুর। ইদানিং অন্যান্য চাষের পাশাপাশি কৃষকরা এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও ব্যক্তিগত উদ্যোগে খেজুর গাছের কিছু চারা রোপন করেছেন।

ঝিনাইদহে ২৪ ঘন্টায় সিভিল সার্জনের তেলেসমাতি কৌশলে লাইসেন্স পাওয়া যাচ্ছে!
ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ
ঝিনাইদহের সিভিল সার্জন ডা: রাশেদা সুলাতানার তেলেসমাতি কারবার ফাঁসের ঘটনায় ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে তিনি মাত্র ২৪ ঘন্টার ব্যবধানে শৈলকুপার শামীম হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক কমপে¬ক্স এর লাইসেন্স এর সার্বিক কাগজপত্র সম্পন্ন করেছেন। এ ব্যাপারে ডা: রাশেদা সুলাতানা বলেন, তার স্বাক্ষর, সীল জালিয়াতি করে কেউ কাগজপত্র তৈরি করলে তার দায়ভার সিভিল সার্জনের নয়। তবে রেজিষ্ট্রারের স্মারক, ডকেট ও শৈলকুপার শামীম হাসপাতালের নামে অফিস ফাইল দেখাতে তিনি সাংবাদিকদের নিকট অপরাগতা প্রকাশ করেন। লিখিত অভিযোগ ও অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত ১৩-০৩-২০১৭ তারিখে শামীম হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক কমপে-ক্স এর মালিক শাহিন আক্তার মহা-পরিচালক স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বরাবরে লাইসেন্স পাওয়ার জন্য সিভিল সার্জনের মাধ্যমে আবেদন করেন। সিভিল সার্জন রাশেদা সুলতানা মহা-পরিচালক বরাবরে আবেদনটি না পাঠিয়ে এবং মহাপরিচালকের অনুমতিপত্র ছাড়াই পরদিন ১৪-০৩-২০১৭ইং তারিখে স্মারক নং-সিএসঝি/শা-৩/২০১৭/৫৭৮ এর প্রেক্ষিতে ১৬-০৩-২০১৭ তারিখে প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনের চিঠি করেন। তবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, মহাখালী, ঢাকার স্মারক নং স্বাঃ অধিঃ/ হাসঃ/প্রাইভেট ক্লিনিক/২০১৬/১৯৬ তারিখ-০৫-০১-১৭ ব্যবহার করেন। যেখানে আবেদনই করা হয়েছে ১৩/০৩/২০১৭ সেখানে দুই মাস পূর্বের ০৫/০১/১৭ এর আবেদনের প্রেক্ষাপট রহস্যজনক বলেই আপাতদৃষ্টে মনে হয়। এছাড়া ১৬-০৩-২০১৭ তারিখে ক্লিনিক পরিদর্শন টিম আবেদনে শুধুমাত্র তানিশা (প্রা:) ক্লিনিকের নাম পরিবর্তনের উলে¬খ করলেও মহা-পরিচালক বরাবরে স্মারক নং- সিএসঝি/শা-৩/২০১৭/৬০৮/১ এর চিঠিতে সনোপ¬াস ডায়াগনস্টিক সেন্টার নামের একটি ভূয়া প্রতিষ্ঠানের নাম জুড়ে দেওয়া হয় যা শৈলকুপাতে নাই। এর পর ২৯-০৩-২০১৭ তারিখে ৮২১০ নং লাইসেন্সটি ইস্যু করা হয় শামীম হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক কমপে¬ক্স এর নামে, যার মেয়াদ ছিল ৩০-০৬-২০১৭ পর্যন্ত।

এছাড়াও শাহিন আক্তার আদালতে একই তারিখে ইস্যু করা শামীম হাসপাতালের নামে ১৩৭৫ নং লাইসেন্সটির মালিক হিসেবেও দাবি করেছেন। সচেতন মহলের জিজ্ঞাসা একই প্রতিষ্ঠানের নামে ২টা লাইসেন্স কারন ও উদ্দেশ্য কি ? প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে সিভিল সার্জন বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ করলেও তিনি কোন কর্ণপাত করেন নাই বরং নিয়মনীতি উপেক্ষা করেই চলছে শৈলকুপার শামীম হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক কমপ্লে¬ক্স। শামীম হাসপাতালের কোন সেক্টরে প্রয়োজনীয় ডিপে¬ামাধারী নেই, সার্বক্ষনিক ডাক্তার নেই, অগ্নিনির্বাপক লাইসেন্স নেই এমনকি বৈধ বিদ্যুৎ সংযোগও নেই। তবে প্রতিষ্ঠানটির মালিক শাহিন আক্তারের নেপথ্য শক্তির উৎস কোথায় জানতে চায় শৈলকুপার সুধি মহল। তার রয়েছে ২টা টিন নম্বর, নামে বেনামে কয়েকটা ক্লিনিক ডায়াগনস্টিক সেন্টার। জরিপ বিশ্বাস ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক শাহিন আক্তার এর বিভিন্ন জালজালিয়াতির বিরুদ্ধে আদালতে মামলাও রয়েছে একাধিক। রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে চলা প্রচুর বিত্ত বৈভবের মালিক সম্প্রতি শৈলকুপার কবিরপুর মোড়ের মোল¬া টাওয়ারে গড়ে তুলেছেন যথাযথ কাগজপত্রহীন শামীম হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক কমপে¬ক্স, যার নেপথ্যে শক্তির আধার হিসেবে জেলা সিভিল সার্জন কর্মকর্তা রাশেদা সুলতানা ও বিশেষ সহকারি নজরুল ইসলাম কাজ করছেন বলে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে এর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ উঠেছে। এ ব্যাপারে ব্যাপারে ডা: রাশেদা সুলাতানা বলেন, তার স্বাক্ষর, সীল জালিয়াতি করে কেউ কাগজপত্র তৈরি করতে পারে, তাছাড়া ১৩-০৩-২০১৭ তারিখে মহা-পরিচালক স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বরাবরে আবেদন করে ১৪-০৩-২০১৭ইং তারিখেই উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আদেশ ছাড়া ১৬-০৩-২০১৭ তারিখে অডিট টিম গঠন, ১৯-০৩-২০১৭ তারিখে আদেশ ও ২৯-০৩-২০১৭ তারিখে শামীম হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক কমপে¬ক্স এর নামে ইস্যু করা ৮২১০ নং লাইসেন্সটি অনেকটা রাতের আঁধারের মতই মনে হয়। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে রেজিষ্ট্রারের স্মারক, ডকেট ও শামীম হাসপাতালের অফিস ফাইল দেখাতে তিনি সাংবাদিকদের নিকট অপরাগতা প্রকাশ করেন।

 
ঝিনাইদহে লেখাপড়ার নামে জমে উঠেছে কোচিং ও প্রাইভেটের রমরমা বানিজ্য
জাহিদুর রহমান তারিক,ঝিনাইদহঃ
ঝিনাইদহে প্লেগ্রুপ থেকে একেবারে সবোর্চ্চ পর্যন্ত প্রাইভেট ও কোচিং সেন্টার ছাড়া অভিভাবকদের আর কোন গত্যন্তর নেই। জেলার কোচিং সেন্টারগুলো অভিভাবকদের আষ্টেপৃষ্টে বেধে ফেলেছে বলে অভিভাবকদের পক্ষ থেকেই এখন বলা হচ্ছে। ঝিনাইদহ শহরের অধিকাংশ অভিভাবকরা জানিয়েছেন, সুষ্ঠু লেখাপড়ার চর্চাকে পাশ কাটিয়ে কোচিং সেন্টারগুলো বর্তমানে কোন অভিভাবকের কাছ থেকে বেশি টাকা হাতিয়ে নেয়া যাবে। সেই ফন্দি ফিকিরেই ব্যস্ত। জানাগেছে, সরকারের কোন সুনির্দিষ্ট নীতিমালা না থাকার কারণেই ঝিনাইদহ শহরের আনাচে কানাছে অলিতে গলিতে গড়ে উঠছে বিভিন্ন নামের কোচিং সেন্টার। লেখাপড়ার চর্চাকে ব্যবসার ফাঁদ হিসেবে চিহ্নিত করে প্রায় অধিকাংশ কোচিং সেন্টার কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সাথে প্রতারনা করে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন অভিভাবক ত্যাক্ত-বিরক্ত হয়ে সাংবাদিকদের কাছে স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছেন। কোচিং সেন্টারগুলো এমনি জিনিস যেখানে ঢোকার রাস্তা আছে কিন্তু বেরুবার পথ নেই। ফলে দেখা গেছে, লক্ষ লক্ষ টাকা গচ্ছা দিয়েও সবশেষে যা ছিল তাই আছে কোচিং সেন্টারের শিক্ষার্থী। ঝিনাইদহ শহর এবং শহরতলীর সচেতন মহলবাসীরা জানান, যে ছাত্র মেধাবী, সে বাসায় লেখাপড়া করে অখ্যাত স্কুল থেকেই স্ট্যান্ড করে বেরিয়ে যাচ্ছে। তার জন্য কোন কোচিং এর প্রয়োজন পড়ে না। সচেতন মহলবাসীরা আরও জানান, বর্তমান সৃজনশীল প্রশ্ন পত্রের দোহাই দিয়ে কোচিং সেন্টারের মালিকরা তাদের অর্থনৈতিক ফায়দা লুটার  জন্য কোমলমতী ছাত্র-ছাত্রীর মগজে ঢুকিয়ে দিচ্ছে যে, লেখাপড়া বর্তমানে কঠিন হয়ে গেছে এজন্য কোচিং সেন্টারে ভর্তি হওয়া অতি আবশ্যক। কিন্তু সচেতন মহলের ধারণা, সৃজনশীল লেখাপড়ার বিষয়বস্তু কিংবা প্রশ্নপত্র যদি হার্ডই হতো তাহলে যারা শিক্ষা নীতির মাঝে সৃজনশীল প্রশ্ন পত্র ঢুকিয়ে দিয়েছেন তারা নিশ্চয়ই বেকুব নন।

এছাড়া সৃজনশীল প্রশ্ন পত্রের  কিংবা বিষয়বস্তুর  জন্য শিক্ষার্থীদের স্কুল রয়েছে। সেই সরকারি বেসরকারি স্কুলের শিক্ষকরাও নিশ্চয়ই বেকুব নন। সচেতন মহল দাবি করে জানান, ঝিনাইদহের কোচিং সেন্টারগুলো ফায়দা লুটার এটি একটি প্রক্রিয়া। যাতে অভিভাবকরা কোন পথ না পেয়ে কাঁচা পয়সা ঢেলে তাদের সন্তানদের সারাদিনই কোচিং সেন্টারে বসিয়ে রাখতে বাধ্য হচ্ছেন। একটি সূত্র উল্লেখ করেছে, ঝিনাইদহের অধিকাংশ সরকারী-বেসরকারী স্কুলের শিক্ষকরা নিজেরাই একেকটি কোচিং সেন্টার খুলে বসেছেন সেই সাথে বাধ্যতামূলক ঘোষনা করে দিয়েছে, তাদের কোচিং সেন্টারে ছাত্র ভর্তি করাতে হবে অন্যথাই স্কুল পরিক্ষায়ই নম্বর কম দিয়ে ফেইল করিয়ে দেয়া হবে। কি ভয়ঙ্কর কথা! অনুসন্ধান করে দেখা গেছে, কোচিং সেন্টারের সাথে জড়িতরা সবাই কোন না কোন স্কুল কলেজের সাথে প্রত্যক্ষভাবে জড়িয়ে আছে। তারা হয় কোন সরকারী নয়তো বেসরকারী স্কুল কলেজের শিক্ষক। ফলে ঝিনাইদহ শহরের প্রধান প্রধান সড়ক থেকে সমস্ত গলি-উপগলিতে নাম কা ওয়াস্তে শোভা পাচ্ছে শুধু কোচিং সেন্টারের সাইনবোর্ড। কারা এর শিক্ষক? কারা এর ছাত্র? কোন কিছুই বোধগম্য নয়। দেখা গেছে, কোচিং সেন্টারের সাথে জড়িয়ে গিয়ে এই শিক্ষকরা এক সময় স্কুলই খুলে বসেছেন। এর কোন রাজস্ব কর দিতে হয় কি না সেটাও অজ্ঞাত। একসময় ডাক্তারদের পয়সা ওয়ালা বলে সম্বোধন করা হয় এখন ডাক্তারদের পাশাপাশি কোচিং সেন্টারের মালিকদের পয়সা ওয়ালা বলে অভিহিত করা হচ্ছে যা বর্তমানে জেলা জুড়ে ট্যক অব টাউন বলে পরিচিতি পাচ্ছেন।

জানাগেছে, কোচিং সেন্টারের মালিকরা শহরের এবং শহরতলী এলাকা গুলোতে জমির ব্যবসা শুরু করেছেন। পাশাপাশি বিভিন্ন ডেভোলোপিং কোম্পানীর সাথে শেয়ারে ব্যবসা করে যাচ্ছে। নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, বছরশেষে কোচিং ব্যবসার লভ্যাংশ কোটি টাকার উর্ধ্বে ছাড়িয়ে যায়। অনুসন্ধান করে আরো জানা গেছে, কিছু দিন আগেও ঝিনাইদহের সরকারী ও বেসরকারী স্কুলের শিক্ষকরা সম্মিলিতভাবে নিজেরাই একটি কোচিং সেন্টার খুলেছেন এবং তাদের স্কুলের পড়–য়া ছাত্র-ছাত্রীদের তাদের কোচিং সেন্টারে ভর্তি হবার জন্য উদ্ধুদ্ধ করছে। আরো জানা গেছে, ঝিনাইদহ শহরের অগনিত কোচিং সেন্টারের কারনে সরকারী বেসরকারী নামকরা স্কুলগুলো ক্রমেই অন্তঃসার হয়ে পড়ছে। একদিকে স্কুল অন্যদিকে কোচিং সেন্টারের চাপ সহ্য করতে না পেরে প্রায় শিক্ষার্থীরাই মানসিক অসুস্থ হয়ে পড়ছে। এদিকে পাড়ায় মহল্লায় প্রায় প্রতিদিন একটি করে কোচিং সেন্টার তৈরী হবার ফলে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া বর্ণনা করে এলাকাবাসী জানান, ছোট ছোট খুপড়ি ঘরের মধ্যে অবর্ণনীয় ভাবে গাদাগাদি করে বসে সেখানে শিক্ষার্থীরা কি লেখা পড়া শিখছে। কোচিং সেন্টারের অধিকাংশ শিক্ষকদের পাঠদান পদ্বতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন একাধিক অভিভাবক। তারা জানান, রাতেও কোচিং করানো হচ্ছে। এতে কি সবাই একযোগে শিক্ষিত হয়ে পড়ছে ? যা নিয়ে ঝিনাইদহ জেলা জুড়ে ব্যাপক ভাবে আলোচিত হচ্ছে। এদিকে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করে সচেতন মহল জানান, মন্ত্রণালয় কর্তৃক ছাত্র-ছাত্রীদের মেধা বাঁচাতে ঝিনাইদহের কোচিং সেন্টারগুলো যথাদ্রুত বন্ধ করে সিলগালা করা অত্যন্ত জরুরী।

শেয়ার করুন