বরিশালে ড্রাগন চাষে সম্ভাবনার হাতছানি

বরিশাল সারাদেশ

মো:আরিফ হোসেন,বরিশাল ব্যুরো: থাইল্যান্ডে উৎপাদিত হয় জনপ্রিয় ফল ড্রাগন ফ্রুট। বিশেষ করে, ডায়াবেটিক ও উচ্চরক্তচাপে আক্রান্ত রোগীদের জন্য সুষম ফল হিসেবে এর জনপ্রিয়তা রয়েছে। তাছাড়া এ ফলে রয়েছে প্রচুর ভিটামিন-সি, মিনারেল এবং উচ্চ ফাইবার। পুষ্টিগুণে সহজে এ ফল চাষ করে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়া সম্ভব। এছাড়া রোগ-বালাই কম হওয়ায় এবং বাজারদর ভালো থাকায় ড্রাগন চাষে উৎসাহ বেড়েছে বরিশালের কৃষকদের। বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ উপজেলার রহমতপুরে উৎপাদিত হচ্ছে ড্রাগন ফল। ভালো ফলন হওয়ায় কৃষকরাও এ ফল চাষে দিন দিন উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন। সাধারণত এপ্রিল থেকে নবেম্বর মাস পর্যন্ত ড্রাগন ফল পাওয়া যায়। একটি গাছে প্রতি বছর ৩০ থেকে ৫০টি পর্যন্ত ফল ধরে। ওজনে একটি ফল আধা কেজির ওপরে হয়। বাড়ির আঙ্গিনা অথবা ছাদে ড্রাগন চাষ করে পরিবারের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি বানিজ্যিকভাবেও লাভবান হওয়া সম্ভব। পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ ড্রাগন ফল বাজারভেদে প্রতিকেজি আটশ’ থেকে এক হাজার টাকা মূল্যে বিক্রি হয়ে থাকে। হটিকালচারের আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রের উপ-পরিচালক স্বপন কুমার হালদার বলেন, ব্রাঞ্চ কেটে মাটিতে লাগালেই এ গাছ বাড়তে থাকে। প্রতিটি ব্রাঞ্চ বা চারা ৩০ টাকা করে বিক্রি হয়। বছরে দুই এক বার সার ব্যবস্থাপনা ছাড়া তেমন একটা পরিচর্যার প্রয়োজন হয়না। কৃষি গবেষকদের মতে, খাদ্যে সমৃদ্ধ দক্ষিণাঞ্চলে ধান ও ডাল ফসলের পর্যাপ্ত উৎপাদন হলেও ফলের দিক থেকে কিছুটা পিছিয়ে। তবে বাড়িতে উদ্ভাবিত বিভিন্ন প্রজাতির দেশি ও বিদেশি ফল চাষের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। তবে মাঠপর্যায়ে কৃষক ও খামারিদের মাঝে বিদেশি এ ফলের চাষাবাদ ছড়িয়ে দিতে আরো প্রচার-প্রচারণার প্রয়োজন। তাহলেই বিদেশি ফলের আমদানি নির্ভরতা কমে আসবে।

 
বরিশালে বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখান করায় ছাত্রীর বিষপান
বরিশাল ব্যুরো: প্রেমের সম্পর্কে বিয়ের প্রলোভনে অবৈধ মেলামেশার পর বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখান করায় কলেজ পড়–য়া এক ছাত্রী গতকাল রবিবার সকালে আত্মহত্যা জন্য বিষপান করে মুমূর্ষ অবস্থায় এখন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। ঘটনাটি বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার কোদালধোয়া গ্রামের। স্থানীয় ও ছাত্রীর পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ওই গ্রামের সুধীর হালদারের কন্যা ও আগৈলঝাড়া শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত ডিগ্রী কলেজের ছাত্রী বিথী হালদারের (১৮) সাথে একই এলাকার অমরেশ দাসের পুত্র অমৃত দাস ওরফে হৃদয়ের দীর্ঘদিন থেকে প্রেমের সর্ম্পক চলে আসছে। একপর্যায় বিয়ের প্রলোভনে হৃদয় ওই ছাত্রীর সাথে শারীরিক সর্ম্পক গড়ে তোলে। দুই বছর পূর্বে হৃদয় দক্ষিণ কোরিয়ায় চলে গেলেও ফিরে এসে বিথীকে বিয়ে করার আশ্বাস দেয়। অতিসম্প্রতি বিদেশ থেকে হৃদয় বাড়িতে ফিরে বিয়ের প্রলোভনে পূর্ণরায় ওই ছাত্রীর সাথে মেলামেশা করতে থাকে। শুক্রবার কলেজ ছাত্রী বিথী তাকে বিয়ে করার জন্য হৃদয়তে চাঁপ প্রয়োগ করে। এসময় হৃদয় বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখান করে। উপায়অন্তুর না পেয়ে রবিবার সকালে বিথী অভিমান করে ঘরে থাকা কীটনাশক পান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। পরিবারের লোকজন মুমূর্ষ অবস্থায় কলেজ ছাত্রী বিথীকে উদ্ধার করে আগৈলঝাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেছেন।

বরিশালে চুরির হিড়িক, পুলিশের ভুমিকা রহস্যজনক
বরিশাল ব্যুরো: বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জ উপজেলার চরামদ্দি ইউনিয়নের মিয়াবাড়ী বাজারে সপ্তাহের ব্যবধানে আবারো ৪ টি দোকানে দুর্ধর্ষ চুরি সংঘঠিত হয়েছে। এতে এসব দোকানে থাকা নগদ টাকা এবং অন্যান্য মালামাল নিয়ে যায় একটি চোর চক্র। অপরদিকে ১ সপ্তাহ আগে অপর দুটি দোকান থেকে ৩ লক্ষাধিক টাকার মালামাল চুরির ঘটনায় অবশেষে পুলিশ মামলা নিলেও সে ঘটনার কোন ক্লু উদঘান হয়নি। চুরি মামলা নিতে পুলিশের গরিমসি এবং অবশেষে মামলা নেয়ার পরে এত দিনেও কোন সন্দেহ জনক আসামিও আটক না হওয়ায় জন সাধারণের মনে দানা বাধছে নানান প্রশ্ন। এসব ঘটনায় পুলিশ জড়িত থাকতে পারে বলে এলাকায় গুঞ্জন চলছে। কেননা মিয়াবাড়ি বাজারে পুলিশ ক্যাম্পের মাত্র ১শ গজের মধ্যে সপ্তাহের মধ্যে ৬ টি দোকানে চুরির ঘটনা ঘটলো। এত কিছুর পরেও পুলিশের নিরব ভুমিকায় এলাকায় চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, শনিবার রাতে ফের ওই বাজারে ৪টি পান সিগারেটের দোকানে চুরি সংগঠিত হয়েছে। বাজারের স্টিলব্রীজ সংলগ্ন মকবুল হোসেনের পুত্রর চায়ের দোকানের তালা ভেঙ্গে দোকানে ডুকে ৮ হাজার টাকার  সিগারেট ও নগদ ৬হাজার টাকা নিয়ে যায়। পাশাপাশি নিজাম ফকিরের দোকানেও একই কায়দায় ঢুকে প্রায় দশ হাজার টাকার মালামাল নিয়ে যায়। বাজারের পূর্ব দিকে আরও দুটি চায়ের দোকানে চুরির ঘটনা ঘটেছে। উল্লেখ্য, মা ফটোষ্ট্যাট ও ভ্যারাইটিস স্টোর্স ও সহিদ ষ্টোর্স নামের দুটি দোকানে গত সপ্তাহে  ডাকাতির ঘটনা ঘটে। বাজারের মোরে দ্বিতল ভবনের নিচ তলায় ওই দোকানে ৮টি সিসি ক্যামেরা সম্ভলিত নিরাপত্তা বেষ্টোনী ফাকি দিয়ে ডাকাতরা সিসি ক্যামেরার ডিবিআর মেশিন ক্যাশে থাকা লক্ষাধীক টাকা, মোবাইল কার্ড, সিগারেটসহ প্রায় ৩ লক্ষাধীক টাকার মালামাল ডাকাতি করে নির্বীঘেœ চলে যেতে সক্ষম হয়। চরামদ্দি পুলিশ ক্যাম্পের ১শ গজের মধ্যে ওই দোকানঘরটি থাকলেও রেহাই পায়নি এমন চুরির হাত থেকে। এমন ঘটনায় ব্যবসায়ীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন পুলিশের উপর। সহিদ স্টোর্স নামের চা পান বিড়ি সিগারেটের দোকানে ঢুকে প্রায় ২০ হাজার টাকার মালামাল নিয়ে যায় একই রাতে বলে জানান মালিক সহিদ জোমাদ্দর। পুলিশের নাকের ডগায় এমন দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনায় বাজার ব্যবসায়ীরা আতংঙ্কিত। সোহেলে দোকানে ডাকাতি (চুরির) ঘটনায় বাকেরগঞ্জ থানায় মামলা হলেও এখন পর্যন্ত কোন অগ্রগতি নেই বলে তাদের দাবি।

শেয়ার করুন