শুদ্ধ জাতীয় সংগীতে অশুদ্ধ বিচার ব্যবস্থা

বরিশাল সারাদেশ
পিরোজপুর প্রতিনিধি:
শুদ্ধ উচ্চারণে শুদ্ধ সুরে জাতীয় সংগীত প্রতিযোগিতায় পিরোজপুর জেলা পর্যায়ের বিচারে অশুদ্ধতার অভিযোগ উঠেছে ৷ গতকাল ২৮ ফেব্রুয়ারি জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত শুদ্ধ জাতীয় সংগীত প্রতিযোগিতায় প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ এনে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ( সার্বিক ) এর সামনেই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন কাউখালী মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় দল ৷ পরে জেলা প্রশাসন ও জেলা শিল্পকলা একাডেমির সাধারণ সম্পাদক জিয়াউল আহসান গাজী বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি শান্ত হয় ৷
কাউখালী মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুব্রত রায় জানান, শুদ্ধ জাতীয় সংগীতে উচ্চারণ এবং সুর ভুল করা সত্বেও পিরোজপুর সরকারি বালিকা বিদ্যালয়কে প্রথম করা হয়েছে ৷ কাউখালী মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় দল ভাল করা সত্বেও আমাদেরকে দ্বিতীয় স্থান দেওয়া হয়েছে ৷  এক্ষেত্রে জেলা প্রশাসনের বিরুদ্ধে আমাদের কোন অভিযোগ নেই ৷ প্রাথমিক পর্যায়ের বিচারকরাই পক্ষপাতমূলক আচরণের মাধ্যমে প্রতিযোগিতাটিকে বিতর্কিত করেছে ৷ যদিও জেলা প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যাজিষ্ট্রেট বিষয়টি আমলে নিয়ে পুনঃ বিচারের উদ্যোগ নিয়েছিলেন ৷ কিন্তু জেলা শিল্পকলা একাডেমীর সাধারণ সম্পাদকের অনুরোধে বিষয়টি আর সামনে অগ্রসর হয়নি ৷
কাউখালী উপজেলাটি ব্রিটিশ আমল থেকেই সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে তুলনামূলক অনেক এগিয়ে।অনেক প্রথিতযশা কবি সাহিত্যিক, শিল্পী, মৃৎশিল্পী, বুনন শিল্পী ও অভিনয় শিল্পীদের পদচারণে এলাকাটির সুনাম সর্বজন বিদিত। জাতীয় পর্যায়ে এ উপজেলার বহু শিল্পী বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিভার সাক্ষর রেখেছে।কিন্তু অতীব পরিতাপের বিষয় প্রতিটি জাতীয় প্রতিযোগিতায় উপজেলা থেকে জেলা পর্যায়ে প্রতিযোগিতা করে বিভাগে এবং বিভাগ থেকে কেন্দ্রে যেতে হয়। এই ধাপগুলো অতিক্রম করতে যদি প্রতিযোগীকে প্রতারনার শিকার হতে হয় তাহলে তৃণমূল পর্যায়ের সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ ঘটবে কিভাবে ? প্রতিযোগিতার বিচারকবৃন্দকে এজন্য সকল ধরনের হীনমন্যতা পরিহার করতে হবে ৷  যারা কখনো কোন চাপে বা কোন আঞ্চলিকতার ঘৃন্য নাগপাশে আবার কখনো নিজেদের অযোগ্যতাহেতু এমন বিচারকার্য পরিচালনা করেন যা দূষনীয় ।এ নিয়ে প্রতিযোগীদের মনে যেমন অসন্তোষের সৃস্টি হয়, তেমন প্রকৃত শিল্পীরা প্রতিযোগিতা করতেও অনীহা প্রকাশ করে। ফলে প্রতিভাবানদের অন্বেষণ প্রক্রিয়া স্থবীর হয়ে যায়। যারা বিচারকদের আসনে বসেন তাদের মেরুদন্ডের শক্তি এবং বিচারিক সামর্থ না থাকলে ওই  আসনে তাদের না বসাই ভাল। জাজমেন্ট মানেই হল সঠিক মানুষকে সঠিক জায়গায় স্থান দেয়া যা বর্তমানে বাংলাদেশে খুবই বিরল ।

শেয়ার করুন