বর্ণাঢ্য আয়োজনে ঝিনাইদহ জেলা ‘বাংলাদেশ কংগ্রেস’এর উদ্দ্যেগে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস পালিত

খুলনা সারাদেশ

জাহিদুর রহমান তারিক,ঝিনাইদহঃ
ঝিনাইদহ জেলা ‘বাংলাদেশ কংগ্রেস’র উদ্দ্যেগে বিপুল উৎসাহ এবং উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে সোমবার মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস পালিত হয়েছে। দিবসটি পালন উপলক্ষ্যে সার্বিক দিক নিদের্শনা প্রদান করেন ঝিনাইদহ জেলা ‘বাংলাদেশ কংগ্রেস’ এর নেতা মি. শাহিন আলম সিনহা, আ: জব্বার হোসেন ও সুব্রোত কুমার। সকাল ৮টায় ‘বাংলাদেশ কংগ্রেস’ সংগঠনের বিশিষ্ট নেতৃবৃন্দ ও সদস্যরা শহীদদের স্বরণে শুভেচ্ছা ও স্মৃতিচারণ সহ ঝিনাইদহ মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি স্তম্ভে শ্রদ্ধাঞ্জলি জ্ঞাপন করেন। মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি স্তম্ভে শ্রদ্ধাঞ্জলি জ্ঞাপন শেষে ঝিনাইদহের চুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড মুজিব চত্ত্বর প্রাঙ্গনের অস্থায়ী কার্যালয়ে বিকাল ৪.৩০ মিনিটে জেলা ‘বাংলাদেশ কংগ্রেস’ অফিসে এক বিশাল মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন মি. শাহিন আলম সিনহা ঝিনাইদহ জেলা আহবায়ক এবং প্রধান অতীথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন আ: জব্বার হোসেন জেলা সদস্য সচিব ও সুব্রোত কুমার। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন হরিনাকুন্ডু, শৈলকুপা, কালীগঞ্জ, মহেশপুর, কোটচাঁদপুরের উপজেলার বিশিষ্ট নেতা কর্মীরা। আলোচনা সভায় মহান স্বাধিনতা যুদ্ধের শহিদদের আত্মত্যাগের বিষয়ে বিশেষ ভাবে স্বরণ করা হয়। সে সময় বাংলাদেশে সুস্থ ধারার রাজনিতী প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নেতা কর্মীরা ‘বাংলাদেশ কংগ্রেস’র পাশে দাড়ানোর জন্য সবাইকে আহবান জানান ।

ঝিনাইদহে অবসর প্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা পুলিশ সদস্যদের সম্বর্ধনা

ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ
ঝিনাইদহে অবসরপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা পুলিশ সদস্যদের সম্বর্ধনা প্রদাণ করা হয়েছে। জেলা পুলিশের আয়োজনে সোমবার দুপুরে পুলিশ লাইনসে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ঝিনাইদহের পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও শৈলকুপা আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল হাই। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক সরোজ কুমার নাথ, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কনক কান্তি দাস, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌর সভার মেয়র আলহাজ সাইদুল করিম মিন্টু। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কোটচাঁদপুর সার্কেল) সালাহ্ উদ্দিন। পরে স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী ঝিনাইদহের ৫১ জন অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যকে সম্বর্ধনা দেওয়া হয়। এসময় বক্তারা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে বুকে ধারণ করে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।

 

বিশ্ব পানি দিবসে কালীগঞ্জ হাসপাতালে পানি নেই ৭ দিন! বিপাকে ডায়রিয়া রোগীরা!

ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ
বিশ্ব পানি দিবসে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে পানি নেই ৭ দিন, বিপাকে ডায়রিয়া রোগীরা। পানি তোলার মোটর নষ্ট হয়েছে গত ৭ দিন হলো। আর এই কারণে ৭ দিন ধরে পানি নেই হাসপাতালে। দুরদূরান্ত থেকে হাসপাতালে আসা রোগী ও তার স্বজনরা পানির অভাবে চরম দূর্ভোগে পড়েছেন। টয়লেট বা শৌচাগারে পানি না পেয়ে রোগীরা বাইরে থেকে পানি সংগ্রহ করে প্রয়োজনীয় কাজ করছেন। এমন ঘটনার ৭ দিন পার হলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কোন মাথা ব্যাথা নেই। হাসপাতালের কর্মকর্তা (টিএইচএ) অবশ্য বলছেন, মোটর সারানোর জন্য মিস্ত্রির কাছে দেওয়া হয়েছে। হাসপাতালে ভর্তি হালিমা খাতুন নামে একজন ডায়রিয়া রোগী জানায়, আমি দুই দিন হলো হাসপাতালে ভর্তি। কিছুক্ষণ পর পর আমাকে টয়লেটে যেতে হচ্ছে কিন্তু পানির জন্য খুব সমস্যা হচ্ছে। উপায় না পেয়ে হাসপাতালের আশপাশ থেকে পানি আনতে হচ্ছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানালেও তারা কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। আরেক রোগী মইদুল ইসলাম জানান, গত ৫ দিন হলে তিনি হাসপাতালে রোগীর সাথে এসেছেন। কিন্তু হাসপাতালে পানি না থাকায় বাইরে থেকে বোতলজাত পানি কিনে ব্যবহারিক কাজ সারতে হচ্ছে। কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. হুসাইন সাফায়াত জানান, হাসপাতালে পানি উঠানোর জন্য যে মোটরটি ব্যবহৃত হতো সেটি অনেক পুরানো। কয়েকদিন আগে সেটি নষ্ট হয়ে গেছে। আমরা মেরামতের জন্য ইতিমধ্যে ইঞ্জিনিয়ারের কাছে পাঠিয়েছি। জরুরী অবস্থায় সোমবার একটি ছোট মোটর লাগানো হয়েছে তবে তা দিয়ে হাসপাতালের রোগীদের চাহিদা মেটানো সম্ভব হচ্ছে না। তিনি বলেন, দুই একদিনের মধ্যেই এর সমাধান হবে।

ঝিনাইদহে হিন্দু নারী ধর্ষণের পর প্রভাব শালিদের সহযোগিতায় ক্ষমা চেয়ে মাফ

ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ
ঝিনাইদহে চার সন্তানের জননী হিন্দু নারীকে ধর্ষণ করার পরে প্রভাবশালিদের দিয়ে কৌশলে সহযোগিতায় শুধুমাত্র মাপ চেয়ে সমঝোতা করা হয়েছে বলে বিস্তর অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটা ঝিনাইদহ সদর উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়নের ভরতপুর গ্রামে। জানা গেছে, ভরতপুর গ্রামের মৃত আইয়ুব মন্ডলের ছেলে রশিদ (৪৮) পাশের বাড়ির এক হিন্দু নারীকে জোর পূর্বক ধর্ষণ করে। ঘটনাটা ঘটেছে গত ১৭ই মার্চ শনিবার গভির রাতে। কালীপুজা চলাকালীন সময়ে ঐ গ্রামের মৃত মনোরঞ্জন মাষ্টারের বাড়িতে কোন পুরুষ মানুষ না থাকায় লম্পট রশিদ ঐ নারীর ঘরে প্রবেশ করে তাকে জোর পূর্বক ধর্ষণ করে। এ সময় পাশের বাড়ির জনৈক ব্যাক্তি ধস্তাধস্তির শব্দ শুনতে পেয়ে কালীপুজায় থাকা তার স্বামীকে খবর দেয়। খবর পেয়ে তার স্বামী দৌড়ে আসলে রশিদ ততক্ষনাত পালিয়ে যায়। তখন অসহায় নারী তার স্বামীকে সমস্ত ঘটনা খুলে বলে। তখন এই পরিবার ঘটনার জন্য সমাজ পতিদের দারস্ত হলে, তারা ঘটনাটা চেপে যেতে বলে তা না হলে তাদের আরও অসুবিধা হবে বলে হুমকি দেয়।

এ ঘটনা ধামা চাপা দেয়ার ব্যাপারে জবরদস্তি ভুমিকা পালন করে ঐ গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য ঝন্টু বলে গুজব উঠেছে। উল্লেখ্যে, ইউপি সদস্য ঝন্টুর অত্যাচরে অতিষ্ঠ হয়ে ইতিপূর্বে ভরতপুর গ্রাম থেকে অনেক হিন্দু পরিবার ভারতে চলে গেছে। এই সাবেক ইউপি সদস্য ঝন্টু সাংবাদিককে এ নিউজটি করার জন্য পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, কত জাইগা এর থেকে বড় বড় ঘটনা ঘটছে সেখানে আপনারা যান না। অথচ আমরা যে ঘটনা মীমাংসা করে দিয়েছি সে ঘটনার জন্য সাংবাদিক কেন? এ প্রসঙ্গে ঐ হিন্দু নারীর স্বামী বলেন, কি মীমাংসা হয়েছে তা আমি জানি না। ধুর্ত রশিদ গ্রামের ৪/৫ জন লোক সাথে করে আমার নিকট মাপ চেয়ে গেছে। আমি কোন প্রকার বিচার পায়নি। যদি আপনাদের মধ্যে এই ধরনের ঘটনা ঘটত তাহলে তারা সঠিক বিচার পেত। আমি দরিদ্র মানুষ বলে এর বিচার পেলাম না। আবার কাউকে বললে আমার জীবন বাঁচা ও স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে বসবাস করা দায় হয়ে পড়বে। এ প্রসঙ্গে মহারাজ পুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান খুরশিদ আলম ঘটনা জানে না বলে জানায়। কেউ তার কাছে কিছুই জানায়নি। এ ব্যাপারে ঝিনাইদহ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ এমদাদ খান বলেন, ঘটনা টি তার জানা নেই। এমন ঘটনা ঘটলে আমি জানতাম। তারপরে আমি তদন্ত করে এর ব্যবস্থা নিচ্ছি।

ঝিনাইদহে ব্যঙের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠা হাসপাতাল-ক্লিনিকে চলছে অনভিজ্ঞ ডাক্তার ও নার্সের ভেল্কিবাজী!

জাহিদুর রহমান তারিক,ঝিনাইদহঃ
ঝিনাইদহে ব্যঙের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠা হাসপাতাল-ক্লিনিকে চলছে অনভিজ্ঞ ডাক্তার ও নার্সের ভেল্কিবাজী! জেলার বিভিন্ন স্থানে ব্যঙের ছাতার মতো একের পর এক প্রাইভেট হাসপাতাল ও ক্লিনিক গড়ে ওঠেছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, অধিকাংশ প্রাইভেট হাসপাতাল ও ক্লিনিকে অপচিকিৎসা চলছে। অপচিকিৎসা ও অবহেলায় প্রায়শই রোগীর মৃত্যু হয়ে থাকে। এসব ঘটনায় হাসপাতাল ও ক্লিনিক ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটছে। তালা ঝুলিয়েও দেওয়া হচ্ছে। হাতে গোনা কয়েকটি ছাড়া এসব হাসপাতাল-ক্লিনিকে সরকারের নিয়মনীতির তোয়াক্কা করছে না। সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা যায়, সদর উপজেলায় ২৮টি, মহেশপুর উপজেলায় ১৩টি, শৈলকুপা উপজেলায় ৭টি, কালীগঞ্জ উপজেলায় ১৬টি, কোটচাঁদপুর উপজেলায় ৭টি ও হরিণাকুন্ডু উপজেলায় ৬টি লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রাইভেট হাসপাতাল রয়েছে। আর জেলায় ডায়াগনস্টিক ল্যাবরেটরি আছে ৭৭টি। সরকারি নিয়ম আছে, হাসপাতালে সর্বক্ষণ পালাক্রমে ডিউটি করার জন্য তিনজন ডাক্তার, ছয়জন ডিপ্লোমা পাস নার্স ও ছয়জন প্রশিক্ষিত আয়া থাকতে হবে। হাতে গোনা কয়েকটি ছাড়া কোনো হাসপাতালে ডাক্তার ও নার্স নেই। থাকতে হবে এসিসহ যন্ত্রপাতিতে সজ্জিত অপারেশন থিয়েটার। অনেক হাসপাতালে তা নেই। নেই ইনকিউবেটর। রোগী ও বিশেষজ্ঞদের অভিযোগ, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আইন অনুযায়ী হাসপাতাল পরিচালনা করছেন না। অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা যায়, রোগী ভর্তির পর অপারেশনের প্রয়োজন হলে বাইরে থেকে ডাক্তার এনে অপারেশন করা হয়। অপারেশনের আগে একজন অজ্ঞানকারী ডাক্তার রোগীকে অজ্ঞান করবেন এবং সার্জারি বিশেষজ্ঞ ডাক্তার অপারেশন করবেন। এ বিষয়ে রোগীদের অভিযোগ, সাধারণ এমবিবিএস পাস করা ডাক্তার স্পাইনাল কডে ইনজেকশন দিয়ে রোগীকে অজ্ঞান করেন। বিশেষজ্ঞ নন এমন ডাক্তাররা দেদারছে অপারেশন করে যাচ্ছেন। ডাক্তাররা অপারেশন করে চলে যান। তারপর রোগীর চিকিৎসা দেন ভুয়া নার্স বা আয়া। নার্সিংয়ে অনভিজ্ঞ মহিলাদের অ্যাপ্রোন পরিয়ে নার্স সাজিয়ে রাখা হয়। আয়াদেরও কোনো প্রশিক্ষণ নেই। ডায়াগনস্টিক ল্যাবগুলোতেও নানা অব্যবস্থাপনা আছে। অধিকাংশগুলোতে পাস করা ফার্মাসিস্ট নেই। অনভিজ্ঞ লোক দিয়ে প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। যার মান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। ২০১৫ নালের জুলাই-আগস্ট মাসে মহেশপুর উপজেলার ভৈরবা বাজারে জননী নামে একটি প্রাইভেট হাসপাতালে অপচিকিৎসায় আটজন প্রসূতি ও এক যুবকের মুত্যু হয়। জননী প্রাইভেট হাসপাতালে রোগী মৃত্যুর ঘটনায় দুইজন ডাক্তারকে শাস্তিমূলক বদলিও করা হয়। বাতিল করা হয় হাসপাতালের লাইসেন্স। এর বেশি আর কিছু করা হয়নি। অপচিকিৎসার অভিযোগে এ বছর মহেশপুরে ফাতেমা, মোমেনা ও আব্দুল অজিজ প্রাইভেট হাসপাতাল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আরো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে কালীগঞ্জে হাসনা ক্লিনিক। এ উপজেলায় আরো দুইটি প্রাইভেট হাসপাতাল বন্ধের জন্য ঢাকায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লেখা হয়েছে। সিভিল সার্জন ডা. রাশেদা সুলতানা বলেন, হাতে গোনা দুই-একটি ছাড়া কোনো প্রাইভেট হাসপাতাল সকল নিয়ম মেনে চালানো হচ্ছে না। লোকবলের অভাবে যথাযথভাবে পরিদর্শন করা সম্ভব নয়। পরিদর্শনে গেলে সেদিন ডাক্তার নার্স এনে রাখা হয়। অবহেলা বা অপচিকিৎসায় রোগীর মৃত্যু হলে তদন্ত করে হাসপাতাল বা ক্লিনিক সিলগালা করে দেওয়া হয়। অব্যবস্থাপনায় প্রতিটি মৃত্যুর ঘটনার অভিযোগ পেলে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

 

শেয়ার করুন