মিয়ানমারকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে ওআইসি’র প্রস্তাব

latest news জাতীয়

ঢাকা, ০৬ মে: রোহিঙ্গা নির্যাতনের ঘটনায় মিয়ানমারকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে চায় গাম্বিয়া; এজন্য আফ্রিকার দেশটি ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সম্মেলনে ওআইসির মন্ত্রী পর্যায়ের একটি কমিটি গঠনের প্রস্তাব করেছে। প্রস্তাবটি সর্বসম্মতভাবে পাস করা হয়।

গাম্বিয়ার প্রস্তাবে ওআইসির জোটভুক্ত দেশগুলো সমর্থন জানিয়েছে বলে সম্মেলন সূত্রে জানা গেছে।

ওআইসি পররাষ্ট্র মন্ত্রীদের দুদিনব্যাপী সম্মেলন গতকাল শনিবার থেকে ঢাকায় শুরু হয়েছে। সম্মেলনের শেষ দিনে আজ রবিবার ‘রোহিঙ্গা সংকটসহ ওআইসিভুক্ত দেশগুলো যে মানবিক সংকটের মুখোমুখি’ শীর্ষক একটি অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর সভাপতিত্বে ওই অধিবেশনে গাম্বিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল ও আইনমন্ত্রী আবুবকর তাম্বাদুন বাংলাদেশের পক্ষে এই প্রস্তাব দেন।

ওই অধিবেশনে কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টিয় ফ্রিল্যান্ড বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে কানাডা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। এই সংকটের পেছনে যারা দায়ী, কানাডা সরকার তাদেরকে বিচারের মুখোমুখি দাঁড় করাতে সর্বোচ্চ শ্রম বিনিয়োগ করবে।

মুক্ত আলোচনায় অংশ নিয়ে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা অধিবেশনে বলেন, রোহিঙ্গা নির্যাতন এবং নিরীহ এই জনগোষ্ঠীকে বাস্তুহারা করার জন্য মিয়ানমারকে অবশ্যই জবাবাদিহীর আওতায় আনতে হবে। এজন্য ওআইসির সদস্য দেশগুলোকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

তারা আরো বলেন, রোহিঙ্গা সমস্যা শুধু বাংলাদেশ-মিয়ানমার সমস্যা নয়, এটি আন্তর্জাতিক সমস্যা। সব জাতিকেই এই সমস্যার দায় নিতে হবে।

বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নিয়ে তাদের প্রতি মানবিক আচরণ করতে মিয়ানমারের প্রতি আহ্বান জানান বক্তারা। এছাড়া রোহিঙ্গা ইস্যুতে ওআইসির চুপ করে বসে থাকার সুযোগ নেই জানিয়ে বাংলাদেশের পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা।

এ সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদ আলী অভিযোগ করে বলেন, রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে বাংলাদেশ তালিকা দিলেও মিয়ানমার খুব স্বল্পসংখ্যককে ফিরিয়ে নিতে রাজি হয়েছে।

তালিকার ব্যাপারে দেশটি সমস্যা তৈরি করছে বলেও জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

ওআইসিভুক্ত ৫৭টি দেশের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের এই সম্মেলনে অংশ নেন। এবারের সিএফএম সম্মেলনের প্রতিপাদ্য বিষয় হল-‘টেকসই শান্তি, সংহতি ও উন্নয়নের জন্য ইসলামি মূল্যবোধ’। ওআইসির সদস্য সকল রাষ্ট্র, পর্যবেক্ষক রাষ্ট্র, ওআইসি প্রতিষ্ঠানসমূহ ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধানসহ ছয় শতাধিক প্রতিনিধি অংশ নেন। এদের মধ্যে রয়েছেন প্রায় ৪০ জন মন্ত্রী ও সহকারী মন্ত্রী।

মূলত মুসলিম বিশ্বের সংঘাত ও চ্যালেঞ্জসমূহ, আন্তর্জাতিক ইস্যু, দেশে দেশে মুসলমানরা যে ধরনের মানবিক বিপর্যয়ের সম্মুখীন হচ্ছে কীভাবে সেগুলোর সমাধান, মুসলিম উম্মাহর আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, ওআইসি দেশগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং সাংস্কৃতিক বিষয়সহ বিভিন্ন ধরনের সহযোগিতার ক্ষেত্র খুঁজে বের করার চেষ্টা করা হয় ঢাকায় এই সিএফএম-এ।

ঢাকায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে চলছে এই সম্মেলন। গতকাল শনিবার সম্মেলনের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ ২৫ বছর পর ওআইসির পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সম্মেলনের আয়োজন করছে। ১৯৮৩ সালের ডিসেম্বরে তৎকালীন এরশাদ সরকারের সময়ে ঢাকায় পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের ১৪তম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

শেয়ার করুন