ব্রাজিলকে বিদায় করে সেমিফাইনালে বেলজিয়াম

latest news খেলাধুলা
ঢাকা, ০৭ জুলাই : দুই দলই এবারের আসরের হট ফেভারিট, ৫ বারের চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের সামনে সোনালি প্রজন্ম নিয়ে আসা বেলজিয়াম। তাই লড়াইটাও হচ্ছে বেশ উত্তেজনায় ঠাসা। দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বীতাপূর্ণ ম্যাচে শেষ পর্যন্ত জিতেছে হ্যাজার্ড-লুকাকুরা। তারা ২-১ গোলে নেইমারের দলকে হারিয়ে শেষ চারে জায়গা করে নেয়। যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ ফ্রান্স।

শুক্রবার রাতে শুরুতেই ফের্নান্দিনিয়োর আত্মঘাতী গোলে পিছিয়ে পড়ে ব্রাজিল। প্রথমার্ধেই ব্যবধান বাড়ে কেভিন ডে ব্রুইনের দারুণ গোলে। বদলি হিসেবে নামা রেনাতো আউগুস্তোর গোলে আশা দেখেছিল তিতের দল। কিন্তু ঘুরে দাঁড়ানোর ইতিহাস গড়তে পারেনি। ম্যাচের ৭ম মিনিটেই এগিয়ে যেতে পারত ব্রাজিল। নেইমারের কর্নারে কোনোমতে বলে পা লাগিয়েছিলেন চিয়াগো সিলভা। বল উঁচু হয়ে উঠে বারে লেগে ফিরে। ৪ মিনিট পর আরেকটি কর্নার থেকে ফাঁকায় বল পেয়েও ১০ গজ দূর থেকে ঠিকমতো শট নিতে পারেননি পাওলিনিয়ো। ১৩ মিনিটে কর্নার থেকে ঠিকই গোল করে ফেলে বেলজিয়াম। নাসের শাদলির কর্নারে বল ফের্নান্দিনিয়োর কনুইয়ে লেগে জালে ঢোকে। এবারের আসরে এটি ১০ম আত্মঘাতী গোল।

গোল খেয়ে আক্রমণ আরও জোরদার করে ব্রাজিল। তবে কেবল রক্ষণ না করে প্রতিবারই প্রতি আক্রমণে ভীতি ছড়ায় বেলজিয়াম। সুফলও মেলে ৩১তম মিনিটে। মাঝমাঠ থেকে বল নিয়ে এগিয়ে গতি আর শক্তিতে বাধা এড়িয়ে রোমেলু লুকাকু বল বাড়ান ডানে। ডে ব্রুইনে বল ধরে সামনে একটু এগিয়ে ডি-বক্সের ঠিক বাইরে থেকে কোনাকুনি শটে বাঁ পোস্ট ঘেঁষে বল জালে পাঠান। ৫ মিনিট পর দুবার ব্রাজিলকে বঞ্চিত করেন থিবো কর্তোয়া। বাঁ দিক থেকে মার্সেলোর ক্রস ঠেকানোর পর ফিলিপে কৌতিনিয়োর বাঁকানো শট পুরো ঝাঁপিয়ে ঠেকান চেলসির এ গোলরক্ষক।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথমার্ধে দুই গোলে পিছিয়ে থেকে জিততে পারেনি কোনো দল। সেই অসম্ভব কাজটা করতে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই উইলিয়ানের জায়গায় রবের্তো ফিরমিনোকে নামান তিতে। দ্বিতীয়ার্ধের ষষ্ঠ মিনিটেই সুযোগ পেয়েছিলেন লিভারপুলের এই ফরোয়ার্ড; কিন্তু বাঁ দিক থেকে মার্সেলোর দারুণ নিচু ক্রসে পা লাগতে পারেননি। এর পর থেকে একের পর এক হলুদ ঢেউ আছড়ে পড়ে বেলজিয়ামের ডি-বক্সে। তবে দ্বিতীয়ার্ধে সঙ্গত কারণেই রক্ষণে মনোযোগ বেশি ছিল কম্পানিদের। এরই মধ্যে ৬২তম মিনিটে পাল্টা আক্রমণে ম্যাচটা শেষ করে দেওয়া সুযোগ এসেছিল বেলজিয়ানদের। কিন্তু ডে ব্রুইনের বাঁ দিকে বাড়ানো বল ধরে ডি-বক্সে ঢুকে নেওয়া এদেন আজারের শট দূরের পোস্টের সামান্য বাইরে দিয়ে যায়। পরক্ষণেই বদলি হিসেবে নামা দগলাস কস্তার নিচু শট দৃঢ়তার সঙ্গে ঠেকান কর্তোয়া।

৭৫তম মিনিটে আবার কস্তার জোরালো শট, আবার বাধা কর্তোয়া। তবে পরের মিনিটে পুরো ঝাঁপিয়েও পারেননি। কৌতিনিয়োর উঁচিয়ে দেওয়া বলে মাথার পাশ দিয়ে হেডে ডান পোস্ট ঘেঁষে বল জালে পাঠিয়ে ব্রাজিলকে আশা দেখান বদলি হিসেবে নামা আউগুস্তো। ২ মিনিট পর খুব কাছ থেকে ফিরমিনো শটটা লক্ষ্যে রাখতে পারলে সমতায় ফিরতে পারত ব্রাজিল।

৮০তম মিনিটে আরেকটি গোলের খুব কাছে ছিলেন আউগুস্তো। ডি-বক্সের মাঝ থেকে তার জোরালো শট একটুর জন্য পোস্টের বাইরে দিয়ে যায়। ৪ মিনিট পর নেইমারের কাটব্যাকে ফাঁকায় থাকা কৌতিনিয়োর শটও লক্ষ্যে থাকেনি। ৫ মিনিটের যোগ করা সময়েও এসেছিল সুবর্ণ সুযোগ। ডি-বক্স থেকে নেইমারের বাঁকানো শট দুর্দান্ত সেভে ক্রসবারের ওপর দিয়ে পাঠিয়ে ম্যাচে শেষবারের মতো বেলজিয়ামকে রক্ষা করেন কর্তোয়া।

শেয়ার করুন