আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্নরা মিথ্যাচার করে ফায়দা লুটতে চেয়েছিল: প্রধানমন্ত্রী

latest news জাতীয়
  অনলাইন ডেস্ক

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছেন, শিশুদের ঘাড়ে পা রেখে একটি মহল রাজনৈতিক মিথ্যাচার ছড়িয়ে ফায়দা লুটতে চেয়েছিল।

তিনি বলেন, এদের অনেক আঁতেল আবার আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ব্যক্তি। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ায় বিদেশ থেকে চাপ আসছে। কিন্তু মনে রাখতে হবে, তাদের এ কর্মকাণ্ডের কারণে অনেক শিশুর জীবন যেতে পারতো।

শোকের মাস আগস্টের শেষ দিনে গণভবনে ছাত্রলীগ আয়োজিত শোক দিবসের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিশুদের বিক্ষিপ্ত মনকে পুঁজি করে যারা ফায়দা লুটতে চেয়েছিল তাদের কথা দেশের সবার মাথায় রাখা উচিত।

ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে যে স্বাধীনতা এনেছিলাম সেই ইতিহাস মুছে ফেলা হয়েছিল, বিকৃত করা হয়েছিল। বঙ্গবন্ধুর নামটি সাত ইতিহাস থেকে মুছে ফেলা হয়েছিল।

‘৭ মার্চের ভাষণ প্রচার নিষিদ্ধ ছিল। ২১ বছর পর্যন্ত তারা এটা করেছে। শত প্রতিকূলতার মাঝেও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং এদেশের জনগণ জাতির পিতার নাম ধরে রেখেছিল। আমি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। সত্যকে কেউ দাবিয়ে রাখতে পারে না, সত্য উদ্ভাসিত হবেই। ৭ মার্চের সেই ভাষণ এখন ইউনেস্কোর প্রামাণ্য দলিল হিসেবে স্থান করে নিয়েছে।’

তিনি বলেন, এখন অনেকে রাজনীতি করে নিজেদেরকে শুধু প্রতিষ্ঠিত করার জন্য, অর্থ-সম্পদের মালিক হওয়ার জন্য, আবার কেউ রাজনীতি করেন সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য। কিন্তু জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনের কথা চিন্তা করে যারা রাজনীতি করে ইতিহাস শুধু তাদের স্বীকৃতি দেয়। শত চেষ্টা করেও তাদের নাম মুছে ফেলা যায় না। সেই দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তার আদর্শ যদি মেনে চলে যায়, দেশের জন্য কিছু করা যাবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজনীতি শুধু পাওয়ার হিসাব কষার জন্য নয়, কতটুকু দেশকে দিতে পারলাম, কতটুকু মানুষের জন্য করতে পারলাম, কতটুকু মানুষকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারলাম সেখানেই সবচেয়ে বড় পাওয়া। এটা মনে করে যারা রাজনীতি করে তাদের কিছু চাইতে হয় না, ইতিহাস তাদের মূল্যায়ন করে।

নীতির প্রশ্নে কখনও আপোস করেননি বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন: নীতির প্রশ্নে আপস নয়, এটাই হচ্ছে আমার কথা। আমি ছাত্র রাজনীতি করেছি, কিন্তু কখনো পদ-পদবি চাইনি। আমি, কামাল আমরা ভাই-বোন সবাই যাকে যখন দায়িত্ব দেয়া হয়েছে সে দায়িত্ব পালন করেছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কখনও গুলি, কখনও গ্রেনেড হামলা করে আমাকে থামিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে। সেগুলো পরোয়া করিনি। আমি যে পথে যাচ্ছি সঠিক পথে যাচ্ছি। বাংলার জনগণের জন্য যাচ্ছি। আমার বাবা-মা পরিবারের সবাই জাতির জন্য জীবন দিয়ে গেছে এই জাতির মুখে হাসি ফোটানো আমার একমাত্র দায়িত্ব।

শেয়ার করুন