এনামুল হক স্যার আর নেই

খুলনা সারাদেশ

জাহাঙ্গীর হোসেন জুয়েল কুষ্টিয়া প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক সিনিয়র শিক্ষক ও পৌর বিএনপি’র সভাপতি এনামুল হক স্যার বুধবার ভোর রাতে পূর্ব ভেড়ামারাস্থ নিজ বাসভবনে ইন্তেকাল করেছেন।(ইন্না লিল্লাহে ওয়া ইন্না এলাহী রাজিউন)। মৃত্যু কালে তার বয়স হয়েছিলো ৮০ বছর। স্ত্রী ও ৩ মেয়েসহ অসংখক আন্তীয় স্বজন রেখে গেছেন। বুধবার বাদ জোহর চাঁদগ্রাম গোরস্থান ও ঈদগাহ মাঠে জানাযা শেষে দাফন করা হয়।

কুষ্টিয়ার মাথাভাঙ্গা নদীতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

জাহাঙ্গীর হোসেন জুয়েল কুষ্টিয়া প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে মাথাভাঙ্গা নদীতে ডুবে মমিন নামে ৪ বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার বিকালে উপজেলার মহিষকুন্ডি মাঠাপড়া গ্রামে শিশু মৃত্যুর এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা জানায়, উপজেলার প্রাগপুর ইউনিয়নের মহিষকুন্ডি মাঠপাড়া গ্রামের মামুন আলীর ছেলে মমিন বাড়ির পার্শ্ববর্তী মাথাভাঙ্গা নদীতে গোসল করতে গিয়ে পানিতে ডুবে যায়। পরে তার মৃতদেহ ভেষে উঠলে এলাকাবাসী তা দেখে উদ্ধার করে। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আশরাফুজ্জামান মুকুল মাষ্টার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বাড়ির নিটক মাথাভাঙ্গা নদীতে গোসল করতে গিয়ে মামুনের ছেলে মমিন পানিতে ডুবে মারা গেছে।

কুষ্টিয়া সাব রেজিস্ট্রার হত্যাকান্ড সিসি টিভির ফুটেজ নিয়ে তদন্তে নেমেছে পুলিশ

জাহাঙ্গীর হোসেন জুয়েল কুষ্টিয়া প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়া সদর উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার নুর মোহাম্মদকে কারা কি কারনে হত্যা করেছে তা এখনো পরিস্কার হতে পারেনি পুলিশ। তবে হত্যাকান্ডের সাথে কয়েকজন যুবক জড়িত বলে পুলিশ প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছে। এ যুবকদের সাথে কোন বিষয় নিয়ে তার বিরোধ ছিল না-কি তারা ভাড়াটে খুনি এটি জানার চেষ্টা করছে পুলিশ। ঘটনার সময়কার একটি সিসি টিভির ফুটেজ এখন পুলিশের হাতে। সেই ফুটেজে তিন যুবক হত্যাকান্ডে অংশ নিয়েছিল বলে ধারণা করছে পুলিশ। বাড়ির মালিকের ছেলেও তিন যুবককে সিড়ি দিয়ে নেমে যেতে দেখেছে। তবে মামলার তদন্তের স্বার্থে এ বিষয়ে পুলিশ কিছুই বলতে চাচ্ছে না। সাব-রেজিস্ট্রার নুর মোহাম্মদ খুনের ঘটনায় কুষ্টিয়া মডেল থানায় হত্যা মামলা হয়েছে। মঙ্গলবার নিহতের ছোট ভাই কামরুজ্জামান বাদি হয়ে অজ্ঞাতদের আসামী করে হত্যা মামলা করেছেন।
পুলিশের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, যখন হত্যাকান্ড ঘটেছে তখন রাত ১০টা বাজে। এ সময় এলাকার অনেকেই বাইরে ছিলেন। বাড়ির মালিকের ছেলে তিন যুবককে দেখেছেন। আশেপাশের অনেকেই খুনিদের বের হতে দেখেছেন। তাদের কথাবার্তা ও চেহারার ধরন দেখে চিহ্নিত করার কাজ চলছে। খুব দ্রুত খুনিদের পরিচয় জানা যাবে।’
কুষ্টিয়া রেজিষ্ট্রি অফিসের একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীর সাথে কথা হলে জানান,‘ সদর সাব রেজিস্ট্রার নুর মোহাম্মদ শহরের বাবর আলী গেট এলাকায় বিসি স্ট্রিট সড়কের হানিফ আলীর চারতলা বাড়ির তিন তলার একটি ফ্লাটে ভাড়া থাকতেন। ফ্লাটে তিনি একাই থাকতেন। তার পরিবার ঢাকায় বসবাস করে। বাসায় অফিসের এক পিয়ন নিয়মিত রাতের খাবার দিয়ে আসতো। হত্যাকান্ডের দিনও রাতের খাবার দিয়ে আসে পিয়ন। হত্যাকান্ডের পর পরই দুই পিয়ন ফারুক হোসেন ও রাব্বিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ আটক করে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন দলিল লেখক জানান,‘ স্যার (নুর মোহাম্মদ) এমনিতেই মিশুক ছিলেন। সবার সাথে ভাল ব্যবহার করতেন। তার বাড়িতো এই জেলায় নয়, তাই তেমন কোন শক্র থাকারও কথা নয়। তবে শহরের একটি জমি কেনাবেচা নিয়ে হয়তো কারো সাথে তার ঝামেলা হতে পারে। শহরের জেলখানা মোড়ের এরশাদনগরে অবস্থিত সেই সম্পত্তির দাম কয়েক কোটি টাকারও বেশি। পুলিশ এ বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করছে বলে জানান তারা।
ওই সূত্র জানিয়েছে, গত সোমবার শহরের এরশাদনগর এলাকাস্থ আন্ত:জেলা ট্রাক চোরচক্রের মূল হোতা ও মাদারীপুর জেলা কারাগারে বন্দী মনির হোসেনের বাড়ি কেনা-বেচায় কমিশন দলিল করতে সাব রেজিষ্ট্রার নুর মোহাম্মদ শাহ সোমবার সকালে মাদারিপুর কারাগারে গিয়েছিলেন। কাজ শেষে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে কুষ্টিয়াস্থ নিজ কার্যালয়ে ফিরে আসেন। ধারণা করা হচ্ছে ঐ বাড়িটি ক্রয়-বিক্রয় সংক্রান্ত বিষয়ে কোন পক্ষগণের বিরোধ থেকে এই হত্যাকান্ড ঘটে থাকতে পারে। ওই সম্পদ কেনাবেচা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে ভিতরে ভিতরে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল।
স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, সদর উপজেলা সাব- রেজিস্ট্রার নূর মোহাম্মদকে হাত-পা-মুখ বেঁধে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। বাড়িওয়ালা হানিফ আলীর ছেলে আল মাহমুদ বলেন, রাত ১০টার দিকে একটা শব্দ শুনতে পেয়ে তিনি বাসা থেকে বের হন। বাসায় চোর ঢুকেছে মনে করে তিনি চারতলা ভবনের ছাদে গিয়ে খুঁজতে থাকেন। এ সময় তিনতলার ডান দিকের নূর মোহাম্মদের ফ্ল্যাটে উচ্চ শব্দে টেলিভিশন চলছিল। ওই ফ্ল্যাটের দরজার নিচের মেঝের ফাঁকা জায়গা পাপোশ দিয়ে আটকানো দেখেন। সাড়া না পেয়ে কয়েক মিনিট পর তিনি নিচতলায় পানির পাম্পের সুইচ বন্ধ করতে যান।
তিনি আরো বলেন, রাত ১০টার দিকে সিঁড়ি বেয়ে তিনজন যুবককে নামতে দেখেন। তাঁদের মধ্যে একজনের হাতে একটি লম্বা ছুরি ছিল। তাঁরা কারা, কার কাছে এসেছেন, তা জানতে চাইলে এক যুবক বলেন, তাঁরা রেজিস্ট্রার সাহেবের কাছে গিয়েছিলেন। এরপর দ্রুত কলাপসিবল গেট খুলে বাইরে চলে যায় তারা।
ফুটেজ দেখা গেছে এক যুবক মোবাইল ফোনে কথা বলতে বলতে বাড়িতে প্রবেশ করে। তার সাথে আরও দুইজন ছিল। প্রায় এক ঘন্টা পর তিন যুবক এক সাথে বের হয়ে দৌড়ে পালিয়ে যায়। এসময় তারা একটি ব্যাগ ও ছুরি ফেলে যায়। কালো ব্যাগের ভেতরে একটা খেলনা পিস্তল পাওয়া গেছে।
হত্যাকান্ডের পরে কয়েকজন বাড়ির ভিতর গিয়ে দেখেন, রান্নাঘরে হাত-পা ও মুখ বাঁধা অবস্থায় সাব রেজিস্ট্রার নূর মোহাম্মদকে পড়ে থাকতে দেখেন। বাড়ির অন্য ফ্ল্যাটের বাসিন্দাদের সহায়তায় তিনি পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ এসে তাঁকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নেয়। তার মাথায় ও শরীরের দুই স্থানে জখম ছিল। ধারালো ছুরি দিয়ে টান দিয়ে কেটে দেয়া হয় এসব স্থানে। রাত ১১টার দিকে পুলিশ কয়েকজনের সহায়তায় নূর মোহাম্মদকে হাসপাতালে নিয়ে আসে। হাসপাতালে আনার আগেই তিনি মারা যান।
মঙ্গলবার নুর মোহাম্মদের ময়নাতদন্ত করেন কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের কয়েকজন চিকিৎসক। এ সময় নুর মোহাম্মদের মাথার পিছনে ও হাতে কাটার দাগ দেখতে পায় তারা। হত্যার উদ্দেশ্যেই তার ওপর হামলা করা হয়। তিনি ঠেকানোরও চেষ্টা করেন।
কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. তাপস কুমার সরকার বলেন, ‘নিহত নুর মোহাম্মদের মাথায় ও শরীরের গভীর ক্ষত রয়েছে। ধারালো কোন বস্তু দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। প্রচুর রক্তক্ষরণও হয়েছে।
যে বাড়িতে হত্যাকান্ড ঘটেছে তার পাশেই পুপলার প্রিন্টিং প্রেসের অবস্থান। প্রতিষ্ঠাটিতে একাধিক সিসি ক্যামেরা আছে। রাতেই গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল সিসিটিভির ফুটেজ সংগ্রহ করে, তাদের চিহিৃত করা কাজ শুরু করে। হত্যায় অংশ নেয়া যুবকরা পেশাদার খুনি বলে ধারণা করছে পুলিশ। পুলিশ এদের মধ্যে কয়েকজনকে চিহিৃত করেছেও বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে। এদিকে ওই প্রিন্টিং প্রেস থেকে কম্পিউটার ও হার্ডডিস্ক সরিয়ে ফেলা হয়েছে। মালিকপক্ষ এ নিয়ে কিছু বলতে চাচ্ছে না।
গোয়েন্দা পুলিশের একজন কর্মকর্তা নাম গোপন রাখার শর্তে বলেন,‘হত্যাকান্ডের পর পরই তারা ঘটনাস্থলে যান। কিছু আলামত পেয়েছেন। সেখানে দেখা গেছে কয়েকজন যুবক হত্যায় অংশ নিয়েছেন। বিষয়টি তারা গভীরভাবে তদন্ত করছেন। এখনই এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলার সময় আসেনি। সময় আসলে সব জানানো হবে।’
এদিকে হত্যাকান্ডের পর পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি কেএএন নাহিদুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় পুলিশ সুপার এসএম তানভীর আরাফাতসহ পুলিশের অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পরে তিনি পুলিশ সদস্যের নিয়ে জরুরী মিটিং করেন। দ্রুত হত্যাকান্ডের মোটিভ উদ্ধার ও দোষীদের গ্রেফতারের নির্দেশ দেন।
এদিকে নিহত সাব রেজিস্ট্রার নুর মোহম্মদ শাহের লাশের ময়না তদন্ত শেষে অফিসের সহকর্মীদের হাতে লাশ হস্তান্তর করেন পুলিশ। নিহতের নিজ কার্যালয় জেলা রেজিস্ট্রি অফিস চত্বরে গোসল, কাফন ও জানাযা শেষে মরদেহ গ্রহনকালে উপস্থিত ছিলেন- ছেলে সিফাত ইবনে নূর এবং নিহতের ছোটভাই কুড়িগ্রাম রাজারহাট উপজেলার পাড়ামওলা গ্রামের আলহাজ¦ মজিবুর রহমান শাহর ছেলে মহসিন আলী শাহ। লাশবাহী এ্যাম্বুলেন্সটি গ্রামের বাড়ি কুড়িগ্রামের উদ্দেশে রওনা হয়।
কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জহিরুল ইসলাম বলেন,‘ মামলাটি গুরুত্ব সহকারে দেখছেন তারা। ইতিমধ্যে বেশ কিছু তথ্য তাদের হাতে এসেছে। এছাড়া সিসি টিভির ফুটেজও তারা পেয়েছেন। বেশ কয়েকটি দিক মাথায় রেখে তারা এগুচ্ছেন। অচিরেই হত্যার সাথে জড়িতরা আইনের আওতায় আসবে।’

কুষ্টিয়ায় ডিঙ্গী নৌকা বাইচ প্রতিযোগীতা

জাহাঙ্গীর হোসেন জুয়েল কুষ্টিয়া প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার কুমারখালীর বহলবাড়িয়া বিলে দুই দিনব্যাপী গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্যবাহি ডিঙ্গী নৌকা বাইচ প্রতিযোগীতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলার পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান খান ও নন্দলালপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নওশের আলীর পৃষ্ঠপোষকতায় শিবরামপুর গ্রামের বাসিন্দারা ঐতিহ্যবাহি এই নৌকা বাইচ প্রতিযোগীতার আয়োজন করে। শিবরামপুর গ্রামের ময়ূরপঙ্খী ও ভাইভাই নামের দু’টি নৌকা এ প্রতিযোগীতার ফাইনাল খেলায় অংশগ্রহণ করে। চুড়ান্ত প্রতিযোগীতায় ময়ূরপঙ্খী নৌকা প্রথম, ভাই-ভাই দ্বিতীয় ও চাচা-ভাতিজা নৌকা তৃতীয় হয়। বুধবার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন এবং পুরস্কার বিতরণ করেন কুমারখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান খান।

 

কুষ্টিয়ায় ২৫০০ মিটার কারেন্ট জাল ও ইলিশ মাছ জব্দ

জাহাঙ্গীর হোসেন জুয়েল কুষ্টিয়া প্রতিনিধি ॥ মা ইলিশ রক্ষা অভিযানের অংশ হিসেবে বুধবার কুষ্টিয়ার আমবাড়িয়া ও আমলাবাড়িতে অভিযান চালিয়ে ২৫০০ মিটার কারেন্ট জাল ও প্রায় ৪ কেজি জাটকা ইলিশ মাছ জব্দ করা হয়। পরে উপজেলা চত্বরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব সেলিনা বানু মহোদয়, এসিল্যান্ড মোহাম্মদ নূর-এ-আলম, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা রাশেদ হাসানের উপস্থিতিতে কারেন্ট জাল পুড়িয়ে দেওয়া হয় এবং মাছগুলো এতিমখানায় দেওয়া হয়।

কুষ্টিয়ায় কলেজছাত্রীর আত্মহত্যার ঘটনায় ধর্ষক শাহীনের আদালতে আত্মসমর্পণ

জাহাঙ্গীর হোসেন জুয়েল কুষ্টিয়া প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার খোকসা ডিগ্রী কলেজের প্রথম বর্ষের মেধাবী ছাত্রী সুমাইয়া তরুনীর আত্মহননের ঘটনায় অভিযুক্ত ধর্ষক সেই শাহীন আদালতে আত্মসমর্পন করেছেন। বুধবার বেলা সাড়ে ১১ টায় সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট খোকসা আমলী আদালতে আত্মসমর্পন করে জামিন প্রার্থনা করেন শাহীন। বিজ্ঞ আদালতের বিচারক মাসুদুজ্জামান জামিন না মঞ্জুর করে তাকে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন। আত্মহত্যা করার আগে রেখে যাওয়া সুইসাইড নোটে শাহীন তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে বলে উল্লেখ করে এবং তার উপযুক্ত শাস্তির দাবি জানিয়ে রেখে যায় ওই কলেজ ছাত্রী। কিন্তু খোকসা থানার সদ্য বিদায়ী বিতর্কিত ওসি বজলুর রহমান চাপের মুখেও ধর্ষণ মামলা না নিয়ে গত ৫ অক্টোবর আত্মহত্যা প্ররোচনার অভিযোগে অভিযুক্ত শাহীনের বিরুদ্ধে ৩০৬ ধারায় মামলাটি এন্ট্রি করেন। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত শাহীন আত্মগোপনে ছিল।
আত্মহননকারী ছাত্রীর পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, অসুস্থ আপন খালাকে দেখতে কুষ্টিয়া জেলা শহরে যাওয়ার জন্য মামার শ্বশুর শাহীনের মোটরসাইকেলে রওনা হয় সুমাইয়া। কিছদূর যাবার পর নতুন রাস্তা দিয়ে যাওয়ার কথা বলে কৌশলে শাহীন ওই ছাত্রীকে পদ্মা নদীর চরে নিয়ে যায়। সেখানে ভয়ভীতি দেখিয়ে শাহীন তাকে ধর্ষণ করে। শাহীন তাকে বাড়ির গেটে নামিয়ে দিয়ে যায়। সিলিং ফ্যানে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন সুমাইয়া তরনী।
এ ব্যাপারে থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়। কিন্তু পরিবারের লোকজনের আবেদনের প্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ দাফন করা হয়। নিহত কলেজছাত্রীর বাবা আজমল হোসেন খোকসা পৌরসভায় চাকরি করেন। তার বাড়ি উপজেলার কমলাপুর গ্রামে।
একমাত্র মেয়েকে হারিয়ে মা রেশমী পারভিন বন্যা অনেকটা হত বিহ্বল হয়ে পড়েছেন। কারও সঙ্গে কথা বলেন না। বৃহস্পতিবার মেয়ের সুইসাইড নোট পাওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে প্রথম কথা বললেন তিনি। আত্মীয় শাহীনের কবল থেকে মুক্তি পেয়ে ফিরে আসার রাতেই মেয়ে তরুনী ঘটনার সব কথা খুলে বলেছিলেন মাকে। জানিয়েছিলেন কীভাবে, কোথায় তাকে ধর্ষণ করেছে শাহীন। কিন্তু সব ঘটনা শুনে লজ্জার ভয়ে মা বিষয়টি গোপন রাখেন।
নিহত ছাত্রীর চাচা ইস্তেকবাল চয়ন জানান, তারা মেয়ের আত্মহননের কারণ বুঝতে না পেরে থানায় অপমৃত্যুর মামলা করেছেন। সুইসাউড নোট পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তারা ওই নোটটি থানায় জমা দেন বলে জানান। এখন আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য তারা মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তরুনীর আত্মহত্যার পর থেকে শাহীন গা ঢাকা দিয়েছে বলে জানা গেছে। নরপশু শাহীন খোকসা হেলথ কেয়ার নামের একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক।

শেয়ার করুন