কেশবপুরে গর্ভের সন্তানের নিরাপত্তা ও যৌতুকলোভী শ্বশুরবাড়ীর লোকদের নির্যাতন থেকে রক্ষাপেতে দলিত নারীর সংবাদ সম্মেলন

খুলনা সারাদেশ

কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি ॥ কেশবপুরে গর্ভের সন্তানের নিরাপত্তা ও যৌতুকলোভী শ্বশুরবাড়ীর লোকদের নির্যাতন থেকে রক্ষাপেতে উষা দাস ওরফে পূজা নামে এক দলিত নারী মঙ্গলবার বিকালে সংবাদ সম্মেলন করেছে।
কেশবপুর উপজেলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠকালে উপজেলার বাউশলা গ্রামের অমল চন্দ্র দাসের কন্যা উষা দাস ওরফে পূজা জানান, একই উপজেলার বুড়ৃলি গ্রামের উদয় দে-র ছোট ছেলে সাগর দে-র সাথে প্রেমের সম্পর্কের ফলশ্রুতিতে গত দেড় বছর আগে হিন্দু ধর্মীয় রীতিতে তার বড় ভাই তুহিন দে-র উপস্থিতিতে আমার বিবাহ সম্পন্ন হয়। আমার বাবা অমল চন্দ্র দাস এই বিবাহ মেনে নিতে না পারায় কেশবপুর থানায় একটি অভিযোগ করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে কেশবপুর থানার এস আই প্রশান্ত মল্লিক উভয় পক্ষকে থানায় ডেকে সকলের উপস্থিতিতে আমাকে স্বামীর বাড়িতে পাঠায়। সেই থেকে আমি বিগত প্রায় দেড় বছর স্বামীর বাড়িতে বিভিন্ন প্রকার মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের মধ্যে কোন রকমে জীবনযাপন করছিলাম । কিন্তু আমার ভাসুর গত এক মাস আগে বিবাহ করে শ্বশুর বাড়ি থেকে নগদ অর্থ সহ অন্যান্য মূল্যবান জিনিসপত্র যৌতুক হিসাবে নিয়ে আসেন। এই যৌতুক আনার পর থেকে আমার উপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের মাত্রা বাড়তে থাকে । আমার বিবাহের পর আমার ভাসুর ও শ্বশুর নানা ভাবে আমাকে টাকা আনার চাপ দেওয়ায় আমি প্রথমে বাবার বাড়ি থেকে ৪৫ হাজার টাকা, এরপর আবার মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন শুরু করলে আরো ২৫ হাজার টাকা, সর্বশেষ নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে পুনরায় আরো ৩০ হাজার টাকা এনে আমার ভাসুর ও শ্বশুুরের হাতে দেই। এছাড়া আমার দেড় ভরি পরিমানের স্বর্ণের গহনা ছিল যা আমার শ্বশুর আমার নিকট কেড়ে নিয়ে আত্মসাৎ করেছে। পরবর্তীতে আমাকে বাবার বাড়ি থেকে আরো ৫০পঁঞ¦াশ হাজার টাকা আনতে বললে আমি বলি, আমার দরিদ্র পিতার কাছ থেকে পর পর তিন বার মোট ৯০ নব্বই হাজার টাকা এনে দিয়েছি। আর আমার বৃদ্ধ বাবার পক্ষে আর কোন টাকা দেওয়া সম্ভব না। এই কথা শুনে আমার শ্বশুর বলেন, তোরা যে ঘরে থাকিস সেটা আমার বড় ছেলে তুহিন করেছে এবং তুই মুচির মেয়ে, তোকে বড়িতে থাকতে দিয়ে আমরা দীর্ঘদিন একঘরে ছিলাম, তোর জন্য আমরা আর একঘরে থাকতে পারব না। তুই বাড়ি থেকে দুর হয়ে যা। এই নিয়ে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে আমার শ্বশুর, ভাসুর, আমার কাকা শ্বশুর অরুন ও গোপাল আমাকে এলোপাতাড়িভাবে মারতে থাকে এবং তখন আমার ভাসুর আমাকে বলে শালা মূচি মারলে একটা নতুন গামছা পরলে আর কিছু খেসারত দিতে হয়না বলে আমাকে আরো মরাতে থাকে। মারার সময় আমার কাকা শ্বশুর অরুন ও গোপাল বলে যেন কোন মারের দাগ না হয় এমন ভাবে মার তা নাহলে মারের প্রমান থেকে যাবে। এই ঘটনার পর সেই দিন রাতে আমাকে দরজা বিহীন ঘরে থাকতে দেয়। পরদিন সকালে আমার ভাসুর শ্বশুর ও কাকা শ্বশুরা আমাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয় এবং বলেন এখানে কোন মূচি ও তার বংশধর থাকবে না। সেই থেকে আমি অসহায়ভাবে বাপের বাড়িতে পড়ে আছি। তারা আমাকে ও আমার অনাগত সন্তানকে নাশ করার মত হুমকিও দিচ্ছে । সংবাদ সম্মেলনে তিনি যৌত্যুক লোভী শ্শাুর ও ভাসুরের বিচারের সাথে সাথে তার গর্ভের সন্তানের নিরাপত্তার দাবী জানান। সংবাদ সম্মেলনে তার পিতা অমল চন্দ্র দাস ও তার মামা শ্যামল দাস উপস্থিত ছিলেন।

কেশবপুরে দলিল লেখক সাইদুজ্জামানের বিরুদ্ধে বহুবিধ অভিযোগ

কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি ॥
কেশবপুরে দলিল লেখক সাইদুজ্জামানের বিরুদ্ধে বহুবিধ অভিযোগ পাওয়া গেছে।
কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট লিথিত অভিযোগে জানাগেছে, উপজেলার বাগদাহ গ্রামের লুৎফর রহমান মোড়লের পূত্র মশিয়ার রহমান গত মাসের ৯ তারিখে তার বড়ভাই আনিসুর রহমান দলিল লেখক সাইদুজ্জামানের নিকট থেকে সাবকবলা মূলে জমি ক্রয় করে। জমির মূল পর্চা সাইদুজ্জামান তার ভাইকে না দিয়ে অজ্ঞাত কারণে তাদের প্রতিপক্ষকে প্রদান করে এবং পাবর্তীতে দলিলের নকলও তাদের প্রতিপক্ষকে প্রদান করে। বিষয়টি দলিল লেখক সাইদুজ্জামানের নিকট জানতে গেলে সে তাকে গালিগালাজ-সহ দেখে নেওয়ার হুমকী প্রদান করে। এব্যাপারে মশিয়ার রহমান দলিল লেখক সাইদুজ্জামানের লাইন্সেস বাতিল করার জন্য গতকাল উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মিজানূর রহমানের নিকট লিখিত অভিযোগ করেছেন। উল্লেখ্য দলিল লেখক সাঈদুজ্জামান বিরুদ্ধে ইতিপূর্বে একজনকে নানা সাজিয়ে ভূয়া দলিল করার অপর একটি অভিযোগ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের দপ্তরে তদন্তাধীন রয়েছে।

কেশবপুরে বাল্যবিবাহ নিরোধ ও জাতীয় কন্যা শিশু দিবস পালিত

কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি ॥
কেশবপুর উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়ের আয়োজনে বাল্যবিবাহ নিরোধ ও জাতীয় কন্যা শিশু দিবস-২০১৮ উপলক্ষে মানববন্ধন ও আলোচনা সভা মঙ্গলবার সকালে উপজেলা পরিষদ সম্মুখে অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মিজানূর রহমানের সভাপতিত্বে ও উপজেলা মহিলা বিষয়ক অফিসার কানিজ ফাতেমা শেফার পরিচালনায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান নাসিমা সাদেক। আরো বক্তব্য রাখেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার ডাঃ শেখ আবু শাহীন।

কেশবপুরে শিক্ষা থেকে ঝরেপড়া রোধে সচেনতা বৃদ্ধিমূলক সভা

কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি ॥
কেশবপুরে শিক্ষা থেকে ঝরেপড়া রোধ ও বাল্য বিবাহ প্রতিরোধে স্থানীয় ব্যক্তিদের সাথে সচেনতা বৃদ্ধিমূলক সভা দলিত হারচয়েস প্রকল্পের আয়োজনে মঙ্গলবার দুপুরে সাতবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সাতবাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান সামছুদ্দিন দফাদারের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন সাতবাড়িয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক মশিয়ার দফাদার, কেশবপুর উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি এস আর সাঈদ, ইউপি সদস্য মজিবর রহমান, রুহুল কুদ্দুস, জয়নাল আবেদীন, লিপিকা ঘোষ, দলিত হারচয়েস প্রকল্পের ্ইউনিয়ন ফ্যাসালিটেটর প্রহ্লাদ দাস, রুমিচা খাতুন প্রমুখ।

শেয়ার করুন