চকরিয়ায় আশ্রয়কেন্দ্রে কাম স্কুলে হামলার ঘটনায় রেড ক্রিসেন্টের মামলা

চট্টগ্রাম সারাদেশ

চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধিা ঃ
কক্সবাজারের চকরিয়ার বদরখালীতে ঠুটিয়াখালীপাড়া আশ্রয়কেন্দ্র কাম স্কুল ভবন, কেল্লা ও পুকুরের ক্ষতি সাধন এবং ঘেরাও কার্যক্রমে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি (বিডিআরসিএস)। গতকাল বুধবার চকরিয়ার সিনিয়র জুড়িশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এই শীর্ষ আন্তর্জাতিক সেবা সংস্থাটির পক্ষে জনসম্পদহানি ও রক্ষার কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে মামলাটি দায়ের করেছেন বিডিআরসিএস-সিইপি ইনচার্জ মুহাম্মদ আলমগীর। এদিকে আশ্রয়কেন্দ্র কাম ভার্চু স্কুল অ্যান্ড কলেজটিতে সন্ত্রাসী হামলায় জড়িত আশরাফ আলী মাঝিকে (৫২) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
স্থাপনাটির ক্ষয়ক্ষতি সাধন ও হামলায় জড়িত ১৯ জনসহ অজ্ঞাতনামা ৮০ থেকে ৯০ জনকে আসামী করা হয়েছে। মামলার আসামীরা হলেন, আশ্রয়কেন্দ্র সংলগ্ন ঠুটিয়াখালী ও খালকাঁচাপাড়ার বাসিন্দা আশরাফ আলী (৫২), মো. ইউসুফ (২৫), জয়তুন্নাহার মানু (৩২), নুরুন্নবী (৫৫), আবদুল মন্নান (৭০), মো. আলমগীর-১ (৩৫), মো. জাহাঙ্গীর (৩২), জিয়াসমিন (২৮), মো. আলমগীর-২ (৩০), মিনা আক্তার (২৮), রফিক উদ্দিন মাঝি (৩২), ছৈয়দ নুর-১ (৪৫), হাছিনা বেগম (৪২), শহর আলী (৪৫), নুরুল হুদা বদ (৪৫), রেহেনা বেগম (৩৫), ওয়াজ উদ্দীন (৩৫), রুনা আক্তার (৩০), মৃত আব্দুল মজিদের ছেলে ছৈয়দ নুর (৫০)। ইতিপূর্বে গত ২৪শে সেপ্টেম্বর ঘেরাও কাজে রেড ক্রিসেন্ট কর্মকর্তা, স্কুল কর্তৃপক্ষ ও পুলিশের উপর চড়াও এবং হামলার পর গত ১লা অক্টোবর সং¯’াটির সম্পদ বিভাগের পরিচালক মো. কে. এফ রহমান (শাহ আলম) উপজেলা ইনচার্জকে আইনগত ব্যব¯’া নেওয়ার জন্য নির্দেশ দেন। এরপর গত রোববার আবারও ’ স্থানীয় কিছ স্বার্থন্বেষী স্থাপনাটি রক্ষার কাজে হামলা চালালে ভার্চু স্কুলের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও শ্রমিকসহ ১২জন আহত হন।
এজাহার ও রেড ক্রিসেন্ট সূত্রে জানা যায়, দুর্যোগে জীবনরক্ষাকারী গুরুত্বপূর্ণ জনসম্পদ আশ্রয়কেন্দ্র, কেল্লা ও পুকুরের পাশর্^বর্তী কিছু পরিবার দীর্ঘদিন ধরে স্থাপনাটির মাটি, ইট, গাছ-পালা, আসবাবপত্র, সৌর প্যানেল, ব্যাটারিসহ মূল্যবান সরঞ্জামাদি লুট করে আসছিল। এছাড়া যথেচ্ছ ব্যবহারে তা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ও ব্যবহার অযোগ্য হয়ে পড়ে। তা রক্ষণাবেক্ষণ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানবিহীন এলাকাটিতে শিক্ষা বিস্তারের শর্তে ভার্চু স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রতিষ্ঠা ও ব্যবহারের অনুমোদন দেওয়া হয়। গত বছর যাত্রা শুরু করা স্কুলটির সরকারী অনুমোদনের পর এখন ২৬৮ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। আইনী প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ঘেরাবেড়া দিতে গেলে গত ২৪ সেপ্টেম্বর ও ৭ অক্টোবর পর পর দু’বার রক্ষণাবেক্ষণের কাজে বাধা ও হামলা চালানো হয়।
মামলার বাদী বিডিআরসিএস-সিএইপির চকরিয়া উপজেলা ইনচার্জ মুহাম্মদ আলমগীর বলেন, দুর্যোগে যাদের জীবন বাঁচানোর জন্য আশ্রয়কেন্দ্রসহ কেল্লা রক্ষার কাজ করছি তারাই তা ধ্বংস করছে। শুধু তাই নয়। এমনকি জনসম্পদটি রক্ষার কাজেও বাধা দিচ্ছে। যাদের সন্তানদের পড়াশোনার জন্য স্কুল করা হয়েছে তারাই স্কুল চায় না। দীর্ঘদিন ধরে তাদেরকে এই ধ্বংসাত্মক কাজ থেকে সরাতে না পেরে উল্টো হামলার শিকার হয়ে শেষ পর্যন্ত আইনগত ব্যবস্থা নিতে হল।

শেয়ার করুন