ক্ষমতা ও লালসা মানুষকে পশুবৃত্তির দিকে ঠেলে দেয়!

রাজনীতি

সোহেল সানি : ক্ষমতা ও লালসা মানুষকে ‘পশুবৃত্তি’র দিকে ঠেলে দেয়। বিশ্বের বহু রাজা-রানী বা সম্রাট-সম্রাজ্ঞী’র রয়েছে পশুবৃত্তিসুলভ অধ্যায়। যা ইতিহাসে খল চরিত্র বিশেষ। ইতিহাসের কিংবদন্তি চরিত্রের অন্যতম একটি মিশরের রানী ক্লিওপেট্রা
মিশরের রাজা সপ্তম টলেমির কন্যা ছিলেন ক্লিওপেট্রা ও পুত্র অষ্টম টলেমি। বয়সে তিন বছরের ছোট আপন ভাই অষ্টম টলেমির সঙ্গেই বিয়ে হয় ক্লিওপেট্রার। তবুও এ বিয়ে বন্ধন কখনো ‘ক্ষমতা’ অপেক্ষা বড় হয়ে ওঠেনি। স্বামীকে হটিয়ে ক্লিওপেট্রা সিংহাসন দখল করে নেন।
কিন্তু অচিরেই সৈন্যদল বিদ্রোহ ঘোষণা করে রানী ক্লিওপেট্রার বিরুদ্ধে। বিদ্রোহীরা তাঁর স্বামী অষ্টম টলেমিকেই আবার সিংহাসনে বসায়। সিংহাসন ফিরে পেতে ক্লিওপেট্রা উদগ্রীব তখন। মুহূর্তে খবর পান রোমের সেনাপতি মিশরে আসছেন। অপূর্ব সুন্দরী ক্লিওপেট্রা সাহায্য প্রার্থনা করেন রোম সাম্রাজ্যের কিংবদন্তির মহানায়ক জুলিয়াস সিজারের সঙ্গে দেখা করে। মুগ্ধ হয়ে পড়েন সিজার। ভালবেসে বিয়ে করেন ক্লিওপেট্রাকে।
সিজার ও ক্লিওপেট্রা প্রেমকাহিনী রোম সাম্রাজ্যে বিতর্কিত হয়ে পড়ে। ব্রুটাস তাঁকে সিনেট কক্ষে হত্যা করে। কিন্তু জুলিয়াস সিজারের মৃুত্যুর পর তাঁরই শিষ্য সেনাপতি মার্ক অ্যান্টিও ক্লিওপেট্রার প্রেমের ফাঁদে পড়েন। তারপর তা বিয়েতে গড়ায়। অক্টাভিয়াস, অ্যান্টনি ও লেপিডাস এশিয়া মাইনরের ফিলিপ্পি নামক স্থানে যুদ্ধ করে ব্রুটাস ও ক্যাসিয়াকে হত্যা করে সিজার হত্যার প্রতিশোধ নেন।
এতে রোম সাম্রাজ্য বিভক্ত হয়ে যায়। পরে অক্টাভিয়াস ও মার্জ অ্যান্টনির মধ্যেও বিরোধ হয়। ক্লিওপেট্রাকে দমন করতে এসে কিন্তু মার্ক অ্যান্টনি রূপে মুগ্ধ হয়ে প্রেমে পড়েন। তাঁকে বিয়ে করে রোমের সঙ্গে সম্পর্ক ত্যাগ করেন।
সিজারের মতো পম্পেই ও ক্র্যাসাস সমরবিদ হিসাবে মহাবীর ছিলেন। পম্পের সঙ্গে সম্পর্ক মজবুদ করতে সিজার তাঁর কন্যা জুলিয়াকে বিয়ে দেন। পরপর কয়েকটি যুদ্ধে জিতে জুলিয়াস সিজার রোম সাম্রাজ্যের সীমানা বর্ধিত করেন উত্তরে আটলান্টিক মহাসাগরের তীর পর্যন্ত। যে অঞ্চলের হাজার বছর পর নাম দেয়া হয়েছে ইংলিশ চ্যানেল। কিন্তু ত্রি মহাবীরের মধ্যে দেখা দিল ভাঙ্গন।
পম্পেইর স্ত্রী অর্থাৎ সিজারের মেয়ে জুলিয়ার অকাল মৃত্যু হয়। পম্পেই হয়ে ওঠেন সিজারের প্রতিপক্ষ। সিজার তখন ফ্রান্সে বসে খবর পান পম্পেই রোমের রাজধানী দখলের অভিযান শুরু করেছে। ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল ও এশিয়া মাইনর এলাকায় পম্পেই ছিলেন সর্বেসর্বা। সিজার আক্রমন করে তাঁকে পালিয়ে যেতে বাধ্য করলো উত্তর আফ্রিকায়য়। পম্পেই গ্রিসের ফারশালীয়াতে পরাজিত হয়ে মিশরে পালিয়ে যান। খবর শুনে সিজার মিশর হানা দেয়ার আগেই পম্পেইকে গুপ্তঘাতক হত্যা করে। কিন্তু সিজার এতে খুশী হতে পারেননি। মিশরীয়দের হাতে তাঁর শত্রু নিহত হবে এটা মানতে পারছিলেন না।
সৈন্য নিয়ে মিশরে গেলে মিশরের সিংহাসনচ্যুত রানী ক্লিওপেট্রা সঙ্গে তাঁর পরিচয় ঘটে। রূপে মুগ্ধ হয়ে তাঁকে বিয়ে করেন সিজার। একটি পুত্র সন্তান জন্ম দেন। তাঁর নাম রাখা হয় ক্লডিয়াস সিজার। সিজারের নেতৃত্বে একনায়কতন্ত্র কায়েম করলেন। ফলে সিনেট সদস্যরা চটে গেল। একদিন ব্রুটাস ও ক্যাসিয়াস এর নেতৃত্বে বিদ্রোহীরা প্রকাশ্যে সিনেট কক্ষেই জুলিয়াস সিজারকে হত্যা করে। খ্রিষ্ট পূর্ব ৪৪ অব্দের ১৫ মার্চ।
সিজারের মৃত্যুর পর অগাস্টাস সিজার। অগাস্টাস ছিলেন রোম সাম্রাজ্যের প্রথম সম্রাট। তিনি রাজপুত ছিলেন না। মহাবীর জুলিয়াস সিজারের ভাগ্নে ছিলেন। তাঁর নাম ছিল গাইয়াস অক্টোভিয়াস। সম্রাট হয়ে অগাস্টাস সিজার নামধারণ করেন। মহাবীর আলেকজান্ডার মৃতা বরণ করলে গ্রিক সাম্রাজ্য ভেঙ্গে পড়ে। তখনই রোমানরা জয় করতে থাকে একটার পর একটা দেশ। পোষ্যপুত্র হিসাবে সিজার ভাগ্নে গড়ে তুলছিলেন ভবিষ্যৎ উত্তরাধিকারি হিসাবে।
৩৩২ খ্রিষ্টাব্দে মহাবীর আলেকজান্ডারের মৃত্যুর পর থেকে ৩১ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে রোম কর্তৃক মিশর দখলের মধ্যবর্তী সময় পর্যন্ত টলেমি রাজবংশের প্রতিনিধিরা রাজত্ব করেন। ক্লিওপেট্রা একমাত্র রানী যিনি ইউরোপ তথা গোটা রোম সাম্রাজ্যের ওপর প্রভাব বিস্তার করেন। তিনি ছিলেন মিশরের রাজা সপ্তম টলেমির মেয়ে। টলেমি রাজবংশ মিশরীয় আচার-আচারণ, ভাষা, কৃষ্টি উপেক্ষা করে চলতেন। ব্যতিক্রম ছিলেন ক্লিওপেট্রা।
তিনি মিশরীয় বা ফারাওয়াদের মতো বেশভূষা ও ভাষা করায়ত্ত করে নিজেকে মিশরীয় সূর্য দেবতা ‘রে’র কন্যারূপে আত্মপ্রকাশ করেন। সর্পশোভিত স্বর্ণমুকুট পরিধান করতেন। বিলাসবহুল ও রাজকীয় জীবনযাপনে রাজকোষ বড় অংশ ব্যয় হয়ে যেত। ফলে অর্থাভাবও দেখা দিত কখনও কখনও। পিতা রাজা সপ্তম টলেমি ৫১ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে মৃত্যুবরণ করলে ১৫ বছর বয়স্ক ছোটভাই অষ্টম টলেমি সিংহাসনের অধিকারী হন।
রাজসিংহাসনের উত্তরাধিকারের দাবি যাতে অন্যের হাতে না যায়, তার জন্য রাজা সপ্তম টলেমি নিজপুত্র ও কন্যার মধ্যেই বিয়ে দিয়ে যান। ক্লিওপেট্রা ও অষ্টম টলেমির মা-বাবাও আপন ভাই-বোন ছিলেন।
রাজা টলেমি ও রানী ক্লিওপেট্রা স্বামীর স্ত্রীর বন্ধন বিবাদে জড়িয়ে পড়ে। রানী ক্লিওপেট্রা রাজসিংহাসনে বসলেও বেশিদিন টিকতে পারেননি। সৈন্যসামন্তরা বিদ্রোহ করে রানী ক্লিওপেট্রার বিরুদ্ধে। তাঁকে সিংহাসনচ্যুত করে। তাঁর স্বামীকেই ক্ষমতা ফিরিয়ে দেয়। এতে গৃহযুদ্ধ বাঁধে রাজ্যজুড়ে।
ক্লিওপেট্রাকে রাজসিংহাসন ফিরে পেতে ভাবলেন রোম সাহায্য করলেই তিনি স্বামীকে উচ্ছেদ করে আবার সিংহাসনে বসবেন। এ ভাবনার কারণ ছিল তাঁর বাবা সপ্তম টলেমি একবার সিংহাসনচ্যুত হলে রোমের সহায়তায় তা আবার ফিরে পেয়েছিলেন। উচ্ছেদ হয়ে ক্লিওপেট্রা রাজ্যহারা হয়ে পড়েছিলেন।
ঠিক একই সময় রোম সেনাপতি জুলিয়াস সিজারের সঙ্গে যুদ্ধে পরাজিত হয়ে মহাবীর পম্পে পালিয়ে মিশরে আসেন। এ খবর শুনে জুলিয়াস সিজার মিশরে হাজির হন। এটা ৪৮ খ্রিষ্ট পূর্বাব্দের ঘটনা। পম্পেকে আঘাত করার আগেই মিশরে গুপ্তঘাতকের হাতে সিজার নিহত হন। সিজার মিশরে আসলে রাজ্যহারা ক্লিওপেট্রা গোপনে তাঁর সঙ্গে দেখা করেন।
মুগ্ধ হয়ে রোম সেনাপতি সিজার প্রতিশ্রুতি দেন যে, অচিরেই সামরিক বল প্রয়োগ করে ক্লিওপেট্রাকে সিংহাসন ফের বসিয়ে দেবেন। ৪৭ খ্রিষ্ট পূর্বাব্দে জুলিয়াস সিজার ক্লিওপেট্রাকে ঠিকই সিংহাসনে বসিয়ে দিয়ে মাত্র ১৫ দিন পাশে ছিলেন
তিনি ২৭ মার্চ মিশর ছেড়ে আবার নিজ দেশ রোমে গমন করেন। ক্লিওপেট্রার রূপে মুগ্ধ হয়ে প্রথমে প্রণয় এবং বিয়ে করেন এরকম একটা কিংবদন্তি মিশরীয় সমাজে প্রচলিত আছে।
তাঁদের ঔরসে একটি ছেলে হয়, যার নাম টলেমি সিজার। অবশ্য গল্প উপান্যাসে এর সত্যতা বিশ্বাস করেন না কেউ। ক্লিওপেট্রাকে ইতিহাসে বলা হয়েছে কিংবদন্তির মহানায়িকা।
পিতা সপ্তম টলেমি ৫১ খ্রিষ্ট পূর্বাব্দে মারা গেলে রাজসিংহাসনে আরোহণ করেন তাঁর ছোট ভাই অষ্টম টলেমি। ১৫ বছর বয়সী ছোটভাই রাজা অষ্টম টলেমিকে বিয়ে করেন ১৮ বছর বয়স্ক ক্লিওপেট্রা।
পৃথিবীর সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ সুন্দরী রানীর মর্যাদায় আসীন ক্লিওপেট্রা। জীবনীকারদের চোখে ক্লিওপেট্রার কন্ঠস্বর বীণার তারের ধ্বনির সঙ্গে তুলনীয় ভীরুকাঁপা ঠোঁটকে গোলাপের পাপড়ির মতো, মায়াবী হরিণী চোখ, সূর্যমুখীগড়নের নাক অসামান্য সৌন্দর্যরূপের বর্ণনাতীত। স্বর্গের দেবতা প্লেটোর ছিল চারধরনের গুণমুগ্ধ ভক্ত ও তোষামোদকারী কিন্তু রানী ক্লিওপেট্রার ভক্ত অনুরাগীর সংখ্যার রকমের অন্ত ছিল না।
রোমে গিয়ে জুলিয়াস সিজার একটি বিজয় উৎসব পালন করেন। দুই বছর লেগেছিল নিহত পোম্পের সৈন্যদের দমন করতে। ক্লিওপেট্রা ওই উৎসবে রাজকীয় সম্মান প্রদর্শন করা হয়। রোমে স্থাপিত গ্রীক দেবতা ভেনাস জেনেট্টিক্মের মন্দিরে মিশরীয় রানী ক্লিওপেট্রার একটি স্বর্ণমূর্তি স্থাপন করা হয়। সিজার কর্তৃক ক্লিওপেট্রার প্রতি ভালবাসা ও সম্মান প্রদর্শনের নিদর্শন এটি।
মূর্তির বেদিতে খচিত করা হয় এই কথাটি- Goddess of Egypt (মিশরের দেবী)। সিজার আপনজনের হাতে নিহত হন যে মুহূর্তে কাকতালীয় যে রানী ক্লিওপেট্রা তখন রোমেই ছিলেন। এরপর ক্লিওপেট্রা নিজেকে স্বাধীন সম্রাজ্ঞী ঘোষণা করেন। এ সময় রোমের আরেক সেনাপতি অ্যান্টেনি বিশাল এক নৌবহর নিয়ে মিশরের দিকে অগ্রসর হন ক্লিওপেট্রাকে উচ্ছেদ করতে। কিন্তু ক্লিওপেট্রা অ্যান্টেনিকে হাত করার পুতুলে পরিণত করার জন্য কুটনৈতিক চাল চালেন।
বিলাসবহুল প্রমোদতরীতে প্রচুর উপঢৌকন সাজিয়ে অ্যান্টেনির সঙ্গে সাক্ষাত করেন সিডনাস নদীর তীরে। ক্লিওপেট্রা অপরূপ রূপে, গুণে এবং উপঢৌকনাদিতে প্রীতিমুগ্ধ করে অ্যান্টনিকে অধিকার করেন। অ্যান্টেনি ভুলে গেলেন তাঁর পুণ্যবতী পতিপ্রাণা স্ত্রী অক্টাভিয়া ফুলভিয়াকে
।প্রেমযমুনায় যেন ঝাঁপ দিলেন তিনি। পারস্যের বিদ্রোহ দমনের কথা বাদ দিয়ে অ্যান্টেনি ক্লিওপেট্রার সঙ্গে পড়ে থাকলেন মিশরের আলেকজান্দ্রিয়াতে।
সিজারের মৃত্যু যে হীনবল কাটিয়ে ওঠতেই ক্লিওপেট্রা রোম সেনাপতিকে প্রেমের বন্ধনে একাকার করে নেন। ফলে স্ত্রী ফুলভিয়ার মৃত্যু হয় অ্যান্টেনির বিশ্বাসঘাতকতায়। ফুলভিয়া ছিলেন অক্টেভিয়ানের (অগাস্টাস সিজার) আপন বোন। ক্লিওপেট্রাকে শেষ পর্যন্ত বিয়ে করেন অ্যান্টনি। ফলে রোম সাম্রাজ্য গর্জে ওঠলো এর প্রতিক্রিয়ায়। বিয়ের আগে অ্যান্টেনি রোমে চলে গেলে ক্লিওপেট্রা রোম সাম্রাজ্যেরই একটি করদ রাজ্য জুডায়ার রাজা হেরোডের বিরুদ্ধচারণ করলেন। অ্যান্টেনির বন্ধু ছিলেন হেরোড।
সিরিয়া ও লেবানন ছিল হেরোডের এলাকা। তা দিয়ে দিতে স্বামীকে বন্ধুর প্রতি চাপ সৃষ্টি করতে বলেন। অ্যান্টেনি রাজী হননি। টলেমি সিজার যে জুলিয়াস সিজারের সন্তান তা রাজকীয় উৎসব করে ঘোষণা করেন সোনার সিংহাসনে আসীন ক্লিওপেট্রা। রোম সাম্রাজ্যের উত্তরাধিকারী।
অগাস্টাস সিজার জুলিয়াস সিজারের পুত্র নন। নাবালক টলেমি সিজারের অভিবাবক হিসাবে ক্লিওপেট্রাকেই রোম সাম্রাজ্যের সম্রাজ্ঞী ঘোষণা করেন।
রোম সাম্রাজ্যের রাজধানী রোম থেকে আলেকজান্দ্রিয়ার স্থানান্তর করেন। চারটি রাজ্য ভাগ করে আলেকজান্ডার হেলিয়সকে আর্মেনিয়া, তাঁর পূর্বস্বামী টলেমিকে পশ্চিমের সমুদয় অঞ্চল। বোন সেলেনকে দেন সাইরেন।
অগাস্টাস সিজারের হাতে দেয়া হয় ইতালির মূল অংশ। রোমান সিনেট গর্জে উঠলো। অ্যান্টেনিকে বরখাস্ত করলো। রোম যুদ্ধ ঘোষণা করলো। ক্লিওপেট্রা ও অ্যান্টেনি নৌযুদ্ধ অংশ নিল। কিন্তু ক্লিওপেট্রা না বলে কেটে পরলো। ফলে পরাজিত হল অ্যান্টনি। অক্টোভিয়ান মিশরের দিকে ছুটে আসছিল। ক্লিওপেট্রা দিশেহারা হয়ে খবর পাঠালেন অ্যান্টেনির কাছে যে ক্লিওপেট্রা মারা গেছে।
এ খবর শুনে অ্যান্টেনি আত্মহত্যা করা ছাড়া কোন গত্যন্তর থাকবে না এটা জেনেই ক্লিওপেট্রা মিথ্যা খবর দিয়েছিলেন বার্তাবাহক দিয়ে। নিজের তরবারি দ্বারা আঘাত করে অ্যান্টনি আত্মহত্যা করার পর ক্লিওপেট্রা অক্টেভিয়াসের কাছে রত্নসম্ভার পাঠালেন। কাজ হল না এ কৌশল। আলেকজান্দ্রিয়ার রাজপ্রসাদ দখল করে ক্লিওপেট্রার শয়নকক্ষে প্রবেশ করলেন। হাজার রত্নমালায় বিভূষিত হয়ে রানী ক্লিওপেট্রা শুয়ে তাঁর স্বর্ণের সিংহাসনে।
তবে ক্লিওপেট্রা জীবিত নয় তখন মৃত। আত্মসম্মান বাঁচাতে সাপের দংশনে তিনি আত্মহত্যা করেন এমন কিংবদন্তী থাকলেও বিদ্বেষী রোমান লেখকরা এসব দাবি করপন। তবে ক্লিওপেট্রার ছেলে টলেমি সিজার পালিয়ে ভারতবর্ষে পৌঁছার আগেই গুপ্তঘাতকের হাতে হত্যার শিকার হন। অগাস্টাস সিজার ভয় করতেন জুলিয়াস সিজারের পুত্র হিসাবে রোম সাম্রাজ্যের বৈধ উত্তরাধিকারি মূলত টলেমি সিজার। তাই তাঁকে হত্যা করা হয়।

লেখক- সোহেল সানি

সাংবাদিক কলামিষ্ট

নির্বাহী পরিচালক ও সম্পাদক

এসটিভি বাংলা

 

শেয়ার করুন