দ্বিতীয় পদ্মা সেতু হবে পাটুরিয়া-গোয়ালন্দে

latest news জাতীয়
 অনলাইন ডেস্ক: দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। ঢাকা-ফরিদপুর মহাসড়কে পাটুরিয়া-গোয়ালন্দ অবস্থানে এটি নির্মিত হবে। এরই মধ্যে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণে পিডিপিপি নীতিগতভাবে অনুমোদিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (৫ মার্চ) একাদশ জাতীয় সংসদ অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বে লিখিত জবাবে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এ তথ্য জানান।

হার্ট অ্যাটার্কে গুরুতর অসুস্থ হয়ে ওবায়দুল কাদের বর্তমানে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন থাকায় প্রশ্নোত্তর পর্বটি টেবিলে উত্থাপিত হয়। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদের অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।

সাবেক মন্ত্রী শাজাহান খানের লিখিত প্রশ্নের জবাবে সেতুমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে গত বছরের ৩০ মে পিপিপি কর্তৃপক্ষের বোর্ড গভর্নরসের দ্বিতীয় সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে ‘২য় পদ্মা বহুমুখী সেতুর উদ্যোগে বর্তমানে নির্মাণাধীন সেতুর কার্যক্রম সমাপ্ত হলে এর অভিজ্ঞতা পর্যালোচনার পর গ্রহণ করা যেতে পারে’। এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২য় পদ্মা সেতু নির্মাণের কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হবে আশা করা যায়।

সরকারি দলের সংসদ সদস্য এম আবদুল লতিফের লিখিত জবাবে ওবায়দুল কাদের জানান, বিআরটিএর পক্ষ থেকে পরিচালিত মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ২০০৯ থেকে ২০১৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ২ লাখ ২১ হাজার মামলায় ২৩ কোটি ২৬ লাখ ২৭ হাজার টাকা জরিমানা আদায় ও ৩ হাজার ৬১৫ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড প্রদান এবং ৯ হাজার ৯১৯টি যানবাহন ডাম্পিং স্টেশনে প্রেরণ করা হয়েছে।

একই সংসদ সদস্যের প্রশ্নের লিখিত জবাবে তিনি আরও জানান, বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর রুটে দেশের প্রথম পাতাল রেল বা আন্ডারগ্রাউন্ড মেট্রোরেল নির্মিত হতে যাচ্ছে। এই রুটের মোট দৈর্ঘ্য ১৯ দশমিক ৮৭ কিলোমিটার। যার মধ্যে মূল পাতাল রেল ১৬ দশমিক ২১ কিলোমিটার এবং আন্ডারগ্রাউন্ড এলিভেটেড ট্রানজিশন সেকশন ৩ দশমিক ৬৫ কিলোমিটার। এই রুটে মোট স্টেশন (আন্ডারগ্রাউন্ড) থাকবে ১২টি, ৭টি স্টেশন হবে এলিভেটেড। এর মধ্যে নতুনবাজার ও যমুনা ফিউচার পার্ক স্টেশন বিমানবন্দর রুটের অংশ হিসেবে আন্ডারগ্রাউন্ড নির্মিত হবে। নতুন বাজার স্টেশনে ইন্টারচেঞ্জ থাকবে। এ ইন্টারচেঞ্জ ব্যবহার করে বিমানবন্দর রুট থেকে পূর্বাচল রুটে এবং পূর্বাচল রুট থেকে বিমানবন্দর রুটে যাতায়াত করা যাবে।

সংসদ সদস্য নাছিমুল আলম চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, গত বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি রাইড শেয়ারিং সার্ভিস নীতিমালা-২০১৭ গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়েছে। গেজেটটি প্রকাশিত হওয়ার পর গত বছরের ২২ এপ্রিল থেকে এ পর্যন্ত মোট ১৬টি রাইড শেয়ারিং সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান এনলিস্টমেন্ট সার্টিফিকেটের জন্য আবেদন করেছে।

তিনি জানান, নীতিমালার কিছু শর্ত প্রতিপালিত না হওয়ার কারণে এখন পর্যন্ত আবেদনকৃত রাইড শেয়ারিং প্রতিষ্ঠানের বিপরীতে এনলিস্টমেন্ট সার্টিফিকেট ইস্যু করা সম্ভব হয়নি। ইতোমধ্যে বিআরটিএ কর্তৃক নীতিমালায় শর্ত পূরণ করার জন্য অ্যাপসভিত্তিক রাইড শেয়ারিং প্রতিষ্ঠানসমূহকে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। ওই নীতিমালা বাস্তবায়নের সঙ্গে বাংলাদেশ পুলিশ, নির্বাচন কমিশন এবং বিটিআরসি সংশ্লিষ্ট বিধায় এই মুহূর্তে রাইড শেয়ারিং প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাচ্ছে না।

সংসদ সদস্য এম আবদুল লতিফের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের আওতাধীন দেশের বিভিন্ন মহাসড়কে পাকা সড়কসংলগ্ন কিছু অব্যবহৃত ভূমিতে অসাধু ব্যক্তিরা দোকানপাট বা বাজার তৈরি করেছেন। অধিদপ্তর থেকে প্রতিনিয়ত এসব অবৈধ দখলরোধে মনিটর করা হচ্ছে এবং ইতোমধ্যে অবৈধ দখলকৃত ভূমি উদ্ধার কার্যক্রম নিয়মিত পরিচালিত হচ্ছে। তথ্য পাওয়া বা নজরে আসামাত্র অবৈধ দখলকৃত ভূমি উদ্ধার কার্যক্রম আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।

শেয়ার করুন