বানারীপাড়ায় প্রধানমন্ত্রীকে কটুক্তি করে ভিডিও ফেসবুকে পোষ্ট করা বিতর্কিত প্রবাসী বিএনপি নেতার আওয়ামী লীগে যোগদানে তোলপাড়!

বরিশাল সারাদেশ

রাহাদ সুমন,বিশেষ প্রতিনিধি॥
বানারীপাড়ায় আওয়ামী লীগ ও প্রধানমন্ত্রীকে কটুক্তি করে ভিডিও ফেসবুকে পোষ্ট করা বিতর্কিত এক প্রবাসী বিএনপি নেতার আওয়ামী লীগে যোগদানের ঘটনায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। এর নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন উপজেলা ও পৌর আওয়ামী লীগ এবং সহযোগী সংগঠন। ওই বিতর্কিত বিএনপি নেতার বাড়ি পৌর শহরের ১নং ওয়ার্ডে। তার পিতার নাম এসকেন্দার হোসেন মোল্লা। সে এক সময়ে স্থানীয় বিএনপির সশস্ত্র ক্যাডার হিসেবে রাজনীতি করতো। তার হাতে আওয়ামী লীগের অনেক নেতা-কর্মী ওই সময় নির্যাতন ও হয়রাণির শিকার হয়েছিলো। ১২ মার্চ মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে উপজেলা ও পৌর আওয়ামী লীগ এবং সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উল্লেখ করেন মোশারেফ হোসেন মোল্লা মালয়েশিয়া থাকা অবস্থায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে অনেক কটুক্তি করে তা রেকর্ড করে ভিডিও পোষ্ট করেন। ওই ভিডিও পরে ভাইরাল হয়ে যায়। তার ওই ঔদত্ত্যপূর্ন মন্তব্য কোনভাবেই ক্ষমার যোগ্য নয়। বিষয়টি মোশারেফ হোসেনের পরিবার ও তার অন্যান্য স্বজনরা বুঝতে পেরে অত্যন্ত সু-কৌশলে প্রবাস থেকে সে ঢাকায় এলে তাকে বানারীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক ৭ মার্চের আলোচনা সভায় হঠাৎ নিয়ে এসে নেতৃবৃন্দের হাতে ফুলের তোড়া দিয়ে আওয়ামী লীগে যোগদান করার ঘোষনা দেয়। ঐতিহাসিক ৭মার্চ’র ওই অনুষ্ঠানে স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. শাহে আলম উপস্থিত ছিলেন। বিবৃতিতে জানানো হয় স্থানীয় সংসদ সদস্য তাকে আগে কখনও দেখেনি এবং চেনেনও না,যে ওয়ার্ডে মোশারেফ হোসেন মোল্লার বাড়ি সেই ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ,সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং উপজেলা ও পৌর আওয়ামী লীগের কোন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দকে যোগদানের বিষয়টি আগে অবহিত করা হয়নি। তারা আরও জানান দলকে এবং স্থানীয় সংসদ সদস্যকে বিতর্কিত করতে কেবলমাত্র উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম সালেহ মঞ্জু মোল্লা কাউকে কিছু না জানিয়ে এই ঘৃনিত ব্যক্তিকে স্বাধীনতার স্ব-পক্ষের শক্তি আওয়ামী লীগে যোগদান করানোর জন্য দলীয় কার্যালয়ে নিয়ে যান। তখন অনুষ্ঠানে উপস্থিত উপজেলা ও পৌর আওয়ামী লীগ এবং সহযোগী সংগঠনের সকল পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ প্রথমে বিস্মিত হন এবং দাঁড়িয়ে এর তীব্র প্রতিবাদ করেন। নিন্দা জানিয়ে বিবৃতিদাতারা হলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি একেএম ইউসুফ আলী,এডভোকেট মাহামুদ হোসেন মাখন,যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি চেয়ারম্যান আ. জলিল ঘরামী এটিএম মোস্তফা সরদার,সাংগঠনিক সম্পাদক ও ইউপি চেয়ারম্যান মো. জিয়াউল হক মিন্টু,মো. শহিদুল ইসলাম,সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সৈয়দ মজিবুল ইসলাম টুকু,ক্রীড়া সম্পাদক জাহিদ হোসেন জুয়েল,পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি সুব্রত লাল কুন্ডু,সম্পাদক শেখ শহিদুল ইসলাম,যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক রাহাদ সুমন,ইলুহার ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. রফিকুল ইসলাম,কৃষক লীগের আহবায়ক এম এ ওহাব,উপজেলা যুবলীগ নেতা মহসিন রেজা,মুন্তাকিম লস্কর কায়েস,দুলাল তালুকদার,পৌর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সজল চৌধুরী প্রমুখ। এদিকে এ প্রসঙ্গে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম সালেহ মঞ্জু মোল্লা জানান কাউকে না জানিয়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে এরকম অনেক বিতর্কিত বিএনপি নেতাকে আওয়ামী লীগে যোগদান করানো হয়েছে তখন কেন এর প্রতিবাদ করা হয়নি।

শেয়ার করুন